× Banner
সর্বশেষ
ধর্মমন্ত্রীর আশু আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের বিশেষ দোয়া দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি পাওয়া স্বচ্ছ নিয়োগের প্রমাণ: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৫-২৬ জুলাই ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিআইইআর সামিট ২০২৬ বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন, পরিকল্পিত আধুনিক নগর গঠনের উদ্যোগ বাজেট বাস্তবায়নেই সাফল্য, কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়ার পরিকল্পনা: অর্থমন্ত্রী FICCI FDI Conference 2026-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে FICCI FDI Conference 2026, উন্মোচিত হলো এফডিআই রিপোর্ট মাদারীপুরে বৈশাখী ভাতা ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় দপ্তরিদের শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কোটালীপাড়ায় উল্টো রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল

বিষাক্ত সাপ, দুর্গম জলাভূমি রোমাঞ্চকর ইতিহাসে ঘেরা মন্দির তেলকুপী

Kishori
হালনাগাদ: বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

গত দুশো বছরের এক রহস্যময় স্থান তেলকুপী। এখানে দিনে রাতে পুটুস ফুলের গন্ধে ম ম করে, ঝিঁঝিঁ ডাকে অবিরত। বর্ষার জলে পরিপূর্ণ হয়ে থাকা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ডের মাঝে বিস্তৃত এক বিশাল পাঞ্চেৎ জলাধার ও দামোদর নদে মিশে থাকা এলাকায় রয়েছে অত্যাশ্চর্য এই স্থাপত্য। তেলকুপী, পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর থানার অধীন লালপুর গ্রাম লাগোয়া প্রায় ২০০ বছরের পুরনো ইতিহাসের খনি। দূর থেকেই দেখতে হয় তেলকুপী মন্দির। কারণ মন্দিরের প্রায় পুরোটাই জলের তলায় চলে যায় বর্ষায়। কাদা-মাটি ঘাস জঙ্গলের ওপারটা ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলা এপারটা বাংলার পুরুলিয়া। যদিও জলার মধ্যে জেগে থাকা সেই প্রাচীন স্থাপত্যটি পড়ছে বাংলাতেই।

প্রাচীন বাংলার এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ এখন কালের গর্ভে বিলীন।  নদী কেন্দ্রিক এক হারানো নগর সভ্যতার কথা লুকিয়ে আছে এখানে। প্রাচীন বাংলার অন্যতম শত্রু আক্রমণের প্রবেশ পথ ছিল বলে মনে করা হয়। কিছু বিশেষজ্ঞদের মতে বহুবার এখান দিয়েই বাংলা আক্রান্ত হয়েছে।

 ১৯৫৭ সালে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের বাঁধ নির্মাণের কারণে এলাকার মন্দিরগুলি জলের তলায় চলে যায়। বঙ্গ বিহার সংযুক্তি আন্দোলনের বিরোধিতায় মানভূম থেকে কেটে তৈরি হয় পুরুলিয়া জেলা। ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তেলকুপী পড়ত তৎকালীন বিহারে।

মন্দিরের কাছে যেতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিষেধ করে। কারণ,  এখানে রয়েছে বিষধর সাপের বাস। শুধু সাপ ই না, বিছে, জলার বিষাক্ত পোকামাকড়ে কিলবিল করছে এই এলাকা। একমাত্র অভিজ্ঞ মাঝিই নিয়ে যেতে পারে এই জলভূমির জটিল জলপথ দিয়ে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষ যাওয়া সম্ভব নয়।

কিন্তু এই সময় কেউ সেখানে যেতে চায় না। পুরুলিয়া জেলার দুরন্ত এই স্থান দেখতে গেলে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।কারণ একটু ভুল হলেই বিষাক্ত নাগরাজ গোখরোর সামনে পড়তে হবে। সরসর করে এঁকে বেঁকে রাস্তা পার হয়ে এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে চলে যায় তারা। দুর্গম জলাভূমির এই মন্দির তেলকুপী যেতে সাহস লাগে । ভারতের মন্দির স্থাপত্যের ইতিহাস নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন তাঁদের অনেকেই তেলকুপী সম্পর্কে জানলেও দুর্গমতার কারণে আসতে পারেন না।

৯০৩ সালে বেঙ্গল আর্কিওলজিকাল সার্ভেয়ার টি. ব্লচ তেলকুপী পরিদর্শন করে আরও বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়েছিলেন। ১৯২৯ সালে পুরাতত্ত্ববিদ নির্মল কুমার বসু ও ১৯৫৯ সালে দেবলা মিত্র এই মন্দির পরিদর্শন করেন। তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র তৈরি করেন। তারপর দু একজন এলেও, পরে আর পর্যটকদের এই মন্দির এলাকা আকর্ষণ করেনি। দুর্গম রাস্তার কারণেই এমন বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে অতীতে বঙ্গভূমির অন্যতম প্রধান এক প্রবেশদ্বার তেলকুপী। সময় পেরিয়েছে, জলা-জঙ্গলে ঘিরে থাকা তেলকুপী হয়ে উঠেছে আরও দুর্গম। এখানে এসে কেউ বলতে পারবে না এটা একুশ শতাব্দী !

এই আধুনিকতর ইন্টারনেটের যুগে তেলকুপীর আসে পাশে গেলে বোঝা যায় নির্জনতা কীরকম। অসাবধান হলেই বিপদ পায়ে পায়ে তেড়ে আসবে। নিছক অরণ্য রহস্যের রোমাঞ্চ যারা নিতে চান তারা না এলেই ভালো। আর যারা পুরাতত্ত্বের সাথে রোমাঞ্চকর ইতিহাসের সন্ধান পেতে চান তারা আসলে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করেই চলতে হবে। পাথুরে মাটি, কাঁকর বিছিয়ে থাকা রাস্তা, ঘন বন, জলাভূমিতে মিশে থাকা বাংলা-ঝাড়খণ্ডের প্রান্তসীমায় এই প্রাচীন মন্দির স্থাপত্যের এলাকা শুধু বিস্ময় ই জাগায় না, তৈরি করে গাঁ শিরশির করা অনুভূতি ও।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..