বিজয়ের ৪৪ বছরেও ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষার গুণগত মান

ডেস্ক রিপোর্টঃ বিজয়ের চুয়াল্লিশ বছরের দীর্ঘ পথচলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে, বছর বছর বেড়েছে পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার। কিন্তু, শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষাবিদরা।

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। এ ধরণের ঘটনা ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়ার আশঙ্কা তাদের।

ত্রিশ লাখ শহীদের তাজা রক্ত আর অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে অন্যান্য খাতের মতোই শিক্ষাব্যবস্থা হয়ে পড়ে নাজুক। সেই অবস্থা কাটাতে সময় লেগে যায় বেশ কয়েক বছর। এরপর প্রতিবছর দেশে পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে হু হু করে। জিপিএ ফাইভ পাওয়াটাও এখন আর কষ্টসাধ্য কিছু নয়।

পাসের হার আর জিপিএ-ফাইভ প্রাপ্তির এত অর্জনের পরেও পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় দেশের শিক্ষার মান না বাড়ায় পরীক্ষা নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থাকে দুষছেন শিক্ষাবিদরা।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ভবিষ্যৎটা পুরোপুরি পাবলিক পরীক্ষায় কি ফল করেছে তার উপর নির্ভর করছে। এই পরীক্ষাকেন্দ্রিকতা দূর করে শিক্ষাকেন্দ্রিকতা আনা দরকার।’

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, ‘হাজার হাজার লক্ষ জিপিএ ৫ পাচ্ছে এ থেকে বোঝার উপায় নেই যে আমাদের শিক্ষার উন্নতি হচ্ছে।’

সম্প্রতি, পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে মহামারীর সঙ্গে তুলনা করেছেন বুয়েট কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক কায়কোবাদ।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, ‘আমরা শিক্ষায় অনেক ভালো করছি সেটা বলার কোন সুযোগ নাই। যে সকল দেশ আমদের প্রায় সমপর্যায়ে ছিল কিন্তু এখন অগ্রগতির মাপকাঠিতে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে তার মধ্যে কোরিয়া, মালয়েশিয়া অনেক দূর এগিয়ে গেছে।’

পরীক্ষা ব্যবস্থায় তথ্য প্রযুক্তির সুফল কাজে লাগানোর পরামর্শ এই শিক্ষাবিদের।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।