দেবাশীষ মুখার্জী, কূটনৈতিক প্রতিবেদক: বহুল প্রতিক্ষিত বাবরি মসজিদ কাণ্ডের রায় ঘোষিত হয়েছে। অবসরের প্রাকমুহূর্তে লখনউয়ের বিশেষ আদালতে আজ রায় পড়লেন বিচারক সুরেন্দ্রকুমার যাদব। আদালত সমস্ত অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস দিয়েছে।
বিচারকগণের যুক্তি, ঐ ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। তথ্যপ্রমাণও যথেষ্ট নয় বলে জানায় আদালত। ফলে সসম্মানে মুক্তি দেওয়া হয়েছে সমস্ত অভিযুক্তকেই। মামলায় মোট ৪৯ জন অভিযুক্তের মধ্যে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা অশোক সিঙ্ঘল, শিবসেনা নেতা বাল ঠাকরে, অযোধ্যার পরমহংস রামচন্দ্র দাস সহ ১৭ জন ইতোমধ্যেই প্রয়াত। জীবিত ৩২ জন।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে উচ্চ ন্যায়ালয় প্রদত্ত রায়ে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, অযোধ্যার ওই পবিত্র ভূমির রাম মন্দিরটি ষোড়শ শতকে ইসলাম ধর্মাবলম্বী উজবেক দখলদার বাবর কর্তৃক ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং ধ্বংসস্তূপের ওপর একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে হাজার হাজার মন্দির ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে, কোটি কোটি হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ এই ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্বসম্প্রদায় সম্পূর্ণ নীরব। এদের সমস্ত আক্রোশ হিন্দুজাতির বিরুদ্ধে- যে কেন তারা তাদের পবিত্র রামমন্দির উদ্ধার করার চেষ্টা করছে।
মাত্র কয়েক বছর আগেও, আফগানিস্তানে সাত লক্ষাধিক হিন্দু ও শিখ বসবাস করত। তালেবান তাণ্ডবে তারা পালানোর পথ খুঁজে পায় নি। আই এস-এর হুমকিতে সম্প্রতি অবশিষ্ট সাত শত হিন্দু ও শিখ আফগানিস্তান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। মাত্র ক’দিন আগে, আফগানিস্তানে শিখদের উপাসনালয়ে বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা করা হয়। নারী-শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে দুই শতাধিক লোক হতাহত হয়। অথচ এই সমস্ত মধ্যযুগীয় বর্বরোচিত সাম্প্রদায়িক হামলা সমূহের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেক টুঁ-শব্দটি পর্যন্ত করে না। ভারতের সেকুলার বুদ্ধিজীবীগণ- বিশেষ করে অমর্ত্য সেন,অরুন্ধতী রায় এবং বাম ও কংগ্রেসপন্থী লেখক-সাহিত্যিক-সাংবাদিক-কন্ঠশি ল্পী-সুরকার-
অভিনেতা-অভিনেত্রী-চিত্রনাট্যকা র প্রমূখ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের জিহাদী-সন্ত্রাসের সম্মান-রক্ষার্থে চিৎকার দিয়ে প্রচার করতে থাকে যে, সন্ত্রাসীদের কোন জাত-ধর্ম হয়না।
অথচ ভারতে যদি ভিন্ন ধর্মের একটি গরু চোরও গণপিটুনিতে নিহত হয়, অমনি এই সেক্যুলার বুদ্ধিজীবীরা হিন্দুদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাপী হিন্দু-বিদ্বেষের ঝড় তোলে।



