হরিচাঁদ ঠাকুর জন্মগ্রহণ না করলে বাংলার বিশাল জনগোষ্ঠী খ্রিস্টান হয়ে যেত

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্ব পুরুষদের মতো, শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের পূর্ব পুরুষদেরও, তুচ্ছ কারণে ব্রাহ্মণ সমাজ থেকে বিচ‍্যুত করা হয়েছিল। শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর না জন্মগ্রহণ করলে, বাংলার বিশাল অস্পৃশ্য জনগোষ্ঠী সনাতন ধর্ম ছেড়ে খ্রিস্টান ধর্মে চলে যেত।

তখন পূর্ব বঙ্গে বড় লাট এসে চাইলেন গরীব, অস্পৃশ্য জনগোষ্ঠীকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করাতে। তখন গুরুচাঁদ ঠাকুর কৌশলে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করালেন এবং অস্পৃশ্য বাঙ্গালিদের লেখাপড়া করার সুযোগ করে দিলেন। তা না হলে পূর্ব বঙ্গের  নিপীড়িত হিন্দু জনগোষ্ঠীর লেখাপড়া শেখা হত না।

সাধনা সম্পর্কে মতুয়াদের প্রতি শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ১২ টি উপদেশ আছে, যা ‘দ্বাদশ আজ্ঞা’ নামে পরিচিত। সেগুলি হলো:

১. সদা সত্য কথা বলবে

২. পিতা-মাতাকে দেবতাজ্ঞানে ভক্তি করবে

৩. নারীকে মাতৃজ্ঞান করবে

৪. জগৎকে ভালোবাসবে

৫. সকল ধর্মের প্রতি উদার থাকবে

৬. জাতিভেদ করবে না

৭. হরিমন্দির প্রতিষ্ঠা করবে

৮. প্রত্যহ প্রার্থনা করবে

৯. ঈশ্বরে আত্মদান করবে

১০. বহিরঙ্গে সাধু সাজবে না

১১. ষড়রিপু বশে রাখবে

১২. হাতে কাম ও মুখে নাম করবে।

লক্ষ‍্য করার বিষয় হচ্ছে, শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর কর্মমুখী একেশ্ববাদ প্রচার করেছেন। পথভ্রষ্টদের দুহাতের সমস্ত অর্থসম্পদ ফেলে, দুবাহু উপরে তুলে ঈশ্বর ভজনার তত্ত্ব – জাতির দীর্ঘ পরাধীনতার অন‍্যতম কারণ। শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের বাস্তববাদী আধ‍্যাত্মিক দর্শন,সামাজিক সাম‍্য ও সম্প্রীতি স্থাপনে অন‍্যতম দিকনির্দেশনা।

শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের সুযোগ‍্য পুত্র মহাত্মা গুরুচাঁদ ঠাকুরকে বর্ণহিন্দুরা স্কুলে ভর্তি হতে দেয় নি। প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের জন্য তাঁকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়েছিল। তিনি উচ্চ শিক্ষিত ব‍্যক্তিতে পরিনত হয়ে, গ্রাম বাংলায় ১৮১২ টি বিদ‍্যালয় স্থাপন করে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে – অনন্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।