বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (সংশোধন) আইন, ২০১৮’ এর খসড়া, বস্ত্র আইন, এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটি ২০০৪ সালের আইন। কর্মকর্তা–কর্মচারী নির্বিশেষে সবাই কর্মচারী নামে অবহিত হবেন। এটা একটা সংশোধনী।’
‘এখানে (খসড়া আইনে) ক্ষমতা অর্পণের একটি বিষয় এসেছে। চাঁদার শিডিউলে চাঁদা দেয়া হয় সেটা যাতে ওনারা (সরকারি কর্মচারী) বোর্ডের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে সময়ে সময়ে হ্রাস–বৃদ্ধি করতে পারেন সেই ক্ষমতা চাওয়া হয়েছে। এটাই মূলত মূল প্রস্তাব।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটা যদি কার্যকর হয়, এখন যে রেইট আছে– কল্যাণ তহবিলের মাসিক চাঁদা এ পর্যন্ত দেয়া হত মূল বেতনের এক শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। এখন সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। যৌথ বীমার মাসিক সর্বোচ্চ প্রিমিয়াম ৪০ টাকা সেটা ১০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।’
শফিউল আলম জানান, প্রস্তাবিত আইনে মাসিক কল্যাণ ভাতা এক হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা, সাধারণ চিকিৎসা অনুদান সর্বোচ্চ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা, দাফনের জন্য ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা, যৌথ বীমার এককালীন অনুদান এক লাখ টাকা থেকে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এগুলোর বিষয়ে যদি আইনি বিধান থাকে যে বোর্ড করতে পারবে, তবে ওনাদের বার বার সংসদে যেতে হবে না। এটা জন্যই এ প্রস্তাবটা আনা হয়েছে।’
বস্ত্র আইন চূড়ান্ত অনুমোদন
বৈঠকে ‘বস্ত্র আইন, ২০১৮’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
গত বছর বস্ত্র খাতের রফতানি আয় মোট রফতানি আয়ের ৮৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ ছিল। তাই বস্ত্রখাতের গুরুত্ব বিবেচনায় ‘বস্ত্র আইন, ২০১৮’ করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিনি বলেন, ‘এখানে একটি অধিদফতর থাকবে। বস্ত্রের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে খসড়া আইনে। সরকার প্রয়োজনে বিধির মাধ্যমে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও শর্তে কোনো বস্ত্র শিল্পকে প্রণোদনা দিতে পারবে। এ প্রভিশন রাখা হয়েছে আইনে।’
খসড়া আইনে বস্ত্র শিল্পের নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়েছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, ‘বস্ত্র অধিদফতরের মহাপরিচালক নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন করবেন। নিবন্ধন নবায়নেরও বিধান রাখা হয়েছে আইনে।’
সরকার আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগার স্থাপন করতে পারবে বলেও খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন অনুমোদন
মন্ত্রিসভা ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটা ১৯৭৪ সালের আইন। এরপর কয়েকটি অর্ডিন্যান্স দিয়ে এটি সংশোধন করা হয়। কিছু সংশোধনী সামরিক শাসনামলে হয়েছে, এজন্য এটিকে বাংলায় নতুন করে আনা হয়েছে।’



