নিউইয়র্ক থেকে শিতাংশু গুহ, ২৪শে ফেব্রূয়ারি ২০১৮।। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সীমান্তে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মানুষ একই মঞ্চে গাইলেন বাংলার জয়গান। ভৌগোলিক সীমারেখা ভুলে একাকার হলেন বাঙ্গালী। পশ্চিমবাংলার খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক উৎসাহের আতিসহ্যে বললেন, “কুড়ি বছরের মধ্যে গোটা বাংলা এক হয়ে যাবে”। তিনি আরো বলেছেন, “কাঁটাতারের বেড়া দুই বাংলার বন্ধনকে আটকাতে পারবে না। তৃণমূল মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ভুলে গেছেন, বাংলাদেশে একটি স্বাধীন স্বার্বভৌম দেশ! আমার ধারণা কিছু অতি-উৎসাহী জনবিচ্ছিন্ন বাম এবং সাম্প্রদায়িক শক্তি নিজ নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে মাঝে মধ্যে দুই বাংলা এক করার স্বপ্ন দেখেন?
সত্তর দশকের শেষের দিকে বাংলাদেশে জনতা পার্টির নেতা ফেরদৌস আহমদ কুরেশী’র মাথায় এমন একটি পোকা কাজ করছিলো। তিনি যুক্ত বাংলার পক্ষে কথা বলতেন। ১৯৭৮-র শেষদিকে এমত একটি সভায় আমি যোগ দেই। আমি তখন তার কাগজ ‘দৈনিক দেশবাংলা’-য় কাজ করি। অফিস ওয়ারীতে। সভা ঐ অফিসেই হয়েছিলো। সবাই পক্ষে। আমি বিপক্ষে। বলেছিলাম: যতদিন ধর্ম থাকবে, ততদিন এটি অসম্ভব। কারণ আমি চাইনা, লেবাননের মত যশোর গ্র্যান্টট্রাঙ্ক রোডের একদিকে হিন্দুরা আর অন্যদিকে মুসলমানরা বন্দুক যুদ্ধে লিপ্ত থাকুক।
ঐসময় বৈরুতের অবস্থাটা তাই ছিলো। একদিকে খৃস্টানরা, অন্যদিকে মুসলমানরা যুদ্ধে লিপ্ত ছিলো। যুদ্ধে মুসলমানরা জয়ী হয় এবং একদা উন্নত বৈরুত নগরীর নাম ইতিহাস থেকে মুছে যায়? বামরা না বুঝেই বা বেশি বুঝে দুই বাংলা একীভূত করার পক্ষে। তারা ভুলে গেছেন সোভিয়েত ইউনিয়নের সত্তর বছরের শাসনে মুসলমানরা কমিউনিষ্ট হয়নি। যার ফলে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙ্গার পর পাঁচটি মুসলিম রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বাম-শাসনেও একই অবস্থা। এমনকি চারু মজুমদারের ভ্রান্ত নকশাল আন্দোলনে মুসলমানের অংশীদারিত্ব প্রায় শূন্যের কোটায়? বাস্তবতা হচ্ছে, মুসলমান কমুনিস্ট হয়না।
মুসলমানরা দুইবাংলা একীকরণে রাজি, কারণ সেখানে তারা সংখ্যাগরিষ্ট। এবং মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ট হলে কি হয়, এর দৃষ্টান্ত তো পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ। পাকিস্তানে স্বাধীনতার সময় প্রায় ৩৩% অ-মুসলমান ছিলেন, আজ সেটি ১%। বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে অ-মুসলমান ছিলেন ১৯.৭%, এখন ৯%। পুরো মুসলিম বিশ্বের দিকে তাকালে এটি আরো স্পষ্ট হবে। মোদ্দা কথা হচ্ছে, মুসলমানরা যেখানে সংখ্যাগরিষ্ট, অন্য ধর্মাবলম্বীরা সেখানে থাকতে পারেন না বা তাদের থাকতে দেয়া হয়না। মানুন বা না মানুন, এটাই বাস্তবতা।
বাংলাদেশের হিন্দুরা বা পাকিস্তানের অ-মুসলমানরা এ তত্ব খুব ভালো বুঝেন, কারণ তারা ভুক্তভুগি এবং তাই তারা যুক্তবাংলার বিপক্ষে। অসমীয়ারা এটি বুঝতে শুরু করেছেন, তাই সেখানে মুসলিম খেদাও আন্দোলন হচ্ছে। পশ্চিমবাংলা আর কিছুদিন অপেক্ষা করুন, মজা টের পাবেন? আপাতত: মমতা ব্যানার্জী’র আর এক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য শুনুন। তিনি বলেছেন, ‘ভারতবর্ষকে কিছুতেই হিন্দুরাষ্ট্র হতে দেয়া যাবেনা’। ভালো কথা, তিনি কিন্তু একবারের জন্যে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের কথা বলেন না?
এই এক অবাক চরিত্র? বাংলাদেশে আপনি হর-হামেশা শুনবেন, এটা মুসলমানের দেশ, হিন্দুরা ভারত যাও। পাকিস্তানের অবস্থা তো আরো খারাপ। সিদ্দিকুল্লাহ-দের এটাই চরিত্র। বামরা মুসলিম ভোটের তোষণ করতে করতে পশ্চিমবঙ্গের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন। এক্সিট পোলে দেখা যাচ্ছে, ত্রিপুরার বামরা হারছেন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কবে জাগবে কে-জানে?
Sitangshu Guha, guhasb@gmail.com


