বগুড়ায় রনক স্পিনিং মিলের বেতনের দাবীতে সংঘর্ষ ॥ ৪ পুলিশসহ আহত ৩৫

বগুড়ায় রনক স্পিনিং মিলের বেতনের দাবীতে সংঘর্ষ ॥ ৪ পুলিশসহ আহত ৩৫

বগুড়া প্রতিনিধি:  বগুড়ায় রনক স্পিনিং মিলে কর্মী ছাটাই ও বেতন ভাতা প্রদানের দাবীতে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে শ্রমিকরা। এঘটনাটি কেন্দ্র করে ১৪ মে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত মিলের মালিকপক্ষ-বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের মধ্যে কয়েক দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের উপর লাঠিচার্জ ও ৬ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

এতে থানার কনষ্টেবল মহসিন আলী, ইসরাফিল, আবু তালেব ও আনজাম সহ ৩৫জন শ্রমিক আহত হয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা যায়।

জানা যায়, জেলার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের সোলাকুড়ি ফকিরতলা গ্রামে রনক স্পিনিং মিলে ৫ শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। করোনা প্রতিরোধে কিছুদিন মিল বন্ধ রাখার পর আবারো চালু করা হয়। এদিকে পুনরায় মিল বন্ধ ও শ্রমিক ছাটাইয়ের আশংকার কথা শুনে ১৩ মে রাতে শ্রমিক পক্ষে শরিফুল ইসলাম ও আব্দুল মালেক নামের দুই শ্রমিক সকল শ্রমিকের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের জিএম মুঞ্জুরুল মোর্শেদের কাছে বেতন এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদের বোনাসের দাবি করে শ্রমিকরা। কিন্তু জিএম তাদের বেতন দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন শ্রমিকদের সাথে মালিক পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। এরই এক পর্যায়ে শরিফুল ইসলাম ও আব্দুল মালেককে কোম্পানী থেকে ছাটাই করা হয়। এই ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। কিন্তু শ্রমিকরা এ ব্যাপারে কোনো ধরনের আশ্বাস না পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে কাজে যোগ দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ভোরে মিল কর্তৃপক্ষ থানা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশের এসআই পুতুল মোহন্ত সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গিয়ে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রনে লাঠিচার্জ করে। এতে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ বাধলে থানা পুলিশ ৬ রাউন্ড রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জ করে। এসময় সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় ৩৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৪জন পুলিশ সদস্য শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ৭জন শ্রমিক বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তিসহ বিভিন্ন প্রাইভেট চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ওই রওনক স্পিনিং মিলের সৃষ্ট ঘটনা নিয়ে শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান ও রনক স্পিনিং মিলের করপোরেট জিএম আব্দুল কাদের বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়া ছাড়াও সংঘর্ষে আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। এতে শ্রমিকরা শান্ত হয়ে কাজে যোগদান করেন।

এ ব্যাপারে রনক স্পিনিং মিলের গ্রুপ জিএম আবুল কাশেম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে উত্তপ্ত পরিবেশের সৃস্টি হলে পুলিশ এসে পরিবেশ নিয়ন্ত্রনে আনে।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ২ প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বেতন-বোনাসের আশ্বাস পেয়ে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।