সারা দেশের ৬০টি জেলায় ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০ চিকিৎসকের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়ে এই পর্যন্ত মোট আক্রান্ত সংখ্যা ৩২৪। জানিয়েছেন বিডিএফের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কর্মকর্তা ডা. নিরুপম দাস।
আজ শনিবার সকালে এসব তথ্য জানান চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন (বিডিএফ)।
তারা জানায়, গত ১৪ এপ্রিলের পর থেকে দেশে প্রতিদিন গড়ে ২৫ জন চিকিৎসক কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। যা প্রতিদিন মোট সংক্রমিত রোগীর ১৩ শতাংশ। আর স্বাস্থ্যকর্মীসহ হিসাব করলে তা ১৬ শতাংশ দাঁড়ায়। অথচ সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় সৃষ্টিকারী যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালিতে এই হার যথাক্রমে ১১ ও ৯ শতাংশ।
বিডিএফের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কর্মকর্তা ডা. নিরুপম দাস বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর গত ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৫৪ জন চিকিৎসক ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হন। পরবর্তী ১১ দিনে এই সংখ্যাটা ৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ গত একদিনেই ৩৭ জন চিকিৎসক কোভিড-১৯ রোগে সংক্রমিত হয়েছেন।
আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সরকারি, বেসরকারি ও বিশেষায়িত হাসপাতালের প্রায় ৩২৪ জন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
গত ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসকের সংখ্যা ছিল মাত্র ১০০ জন।
আক্রান্তদের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি উভয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা রয়েছেন জানিয়ে সংগঠনটির প্রধান নিরুপম দাস বলেন, ‘আক্রান্ত চিকিৎসকদের মধ্যে ২৫৫ জন ঢাকা বিভাগের।’
তিনি জানান, আক্রান্তদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ১৬৩ জন, বেসরকারি হাসপাতালের ৭৬ জন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রের ২০ জন রয়েছেন।
বিডিএফ বলছে, ময়মনসিংহ বিভাগে আক্রান্ত ২৬ জনের সকলেই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক। অন্যদিকে, চট্টগ্রামে বিভাগের আক্রান্ত ১২ জনের মধ্যে একজন ছাড়া অন্যরা সরকারি হাসপাতালের।
এদিকে, খুলনা বিভাগের সাতজন, বরিশালের আট জন, সিলেটে দুজন এবং রংপুর বিভাগের তিনজন চিকিৎসকের মধ্যে এ পর্যন্ত কোভিড-১৯ শনাক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪ হাজার ৯৯৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিজিএইচএস) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা প্রতিদিনের স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানিয়েছেন, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরা বাদে দেশের ৬০টি জেলায় করোনভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সহকর্মীদের মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরও চিকিৎসকদের আইসোলেশনে নেওয়া ও কোয়ারেন্টিন করা হচ্ছে না।
বিডিএফ’র তালিকা অনুসারে আক্রান্ত চিকিৎসকদের বেশিরভাগই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে দায়িত্বরত ছিলেন।
বিডিএফ’র মতে, ‘নিম্নমানের’ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) সরবরাহ, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এবং রোগীদের তথ্য গোপন করার কারণে বাংলাদেশে চিকিৎসক ও স্বাস্থকর্মীদের মধ্যে উচ্চ হারে করোনার সংক্রমণ ঘটছে।
কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার সময় চিকিৎসকদের দেয়া নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. নিরুপম বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই), উন্নত মানের গাউনস, মাস্ক এবং বিশেষ চশমার বিকল্প নেই।




