এস.এম মফিদুল ইসলাম, পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় এ বছর হলূদ চাষের উপর বেশ ঝুঁকে পড়েছে কৃষকরা। সীমিত শ্রমে, অধিক লাভ হওয়ার আশায় কৃষকরা এ ফসলটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাছাড়া অনুকুল আবহাওয়া এবং হলুদ চাষের জন্য উপযোগী মাটি পাওয়ায় হলুদ চাষ অত্র অঞ্চলের কৃষকদের একটি সময়োপযোগী ফসল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফসলি ক্ষেতের ভেতর অধিকাংশ জমিতে এ বছর হলুদ চাষ করা হয়েছে। সারিবদ্ধভাবে চাষ হওয়ায় দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি সবুজের প্রকৃতি যেন এক অন্যরকম প্রতিচ্ছবি সৃষ্টি করেছে। হলুদ চাষের জন্য উর্বর মাটি হওয়ায় অতিদ্রুত গাছগুলো তরতর করে যেন বেড়ে উঠছে। হলূদ চাষের পাশাপাশি অন্যান্য তরিতরকারি উৎপাদন করা যায় বলে কৃষকরা হলুদ কে অগ্রাধিকার দেন। দেখা মেলে একই জমিতে বেগুন, কচুরমুখী, ওলের মুখী, ঝাল চাষ করে একাধিক ফসলের আবাদ। তবে যত ফসলই ফলাক না কেন হলূদ হলো এসকল চাষের মধ্যমণি। হলুদের ব্যবহার আমাদের প্রতিটি পরিবারের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। তরকারির রং বাড়ানো এবং স্বাদের তৈরীতে হলূদের যেন জুড়ি নেই।
মরিয়াম ইয়াসমিন নামের গৃহবধু জানালেন, বাজার থেকে প্যাকেট হলুদ এনে দিলেও চাষের শেষে মাড়াই করা হলুদের যেন কদরটাই আলাদা। থানার কুমিরা গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র শহিদুল ইসলাম জানালেন, সীমিত কীটনাশক সার ঔষধ প্রয়োগ, মাটি গুলো লাইন সৃষ্টি আর একটু দেখভাল করলেই অতি সহজে এ ফসলটিকে ঘরে তোলা যায়। উর্বর মাটি পেলে হলুদ গুলোর বীজ ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। সার ও কীটনাশক বিক্রেতা আব্দুল আজিজ জানান, হলুদ চাষ আমাদের অঞ্চলে একটি লাভবান ফসল হিসেবে পরিচিত। মাঝে মধ্যে পোকার আক্রমনে স্প্রে ব্যবহার এবং সীমিত সার প্রয়োগ করলেই পরিশ্রম শেষ হয়ে যায়। তালা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইসহাক মোল্ল্যা জানান, তালা উপজেলাতে হলুদ চাষ একটি লাভজনক ফসল হিসেবে পরিগণিত। আমাদের কৃষকদের হলুদ চাষের উপর যদি যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয় তবে এ অঞ্চলে হলুদ চাষ একটি জনপ্রিয় ফসলের ভূমিকা পালন করবে।





