পাটকেলঘাটায় জলাবদ্ধতার কবলে বাড়ি ঘর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নাকাল জনজীবন

এস.এম মফিদুল ইসলাম, পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি ॥ পাটকেলঘাটায় জলাবদ্ধতার কবলে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি। শ্রাবণের বাদল ঝরা দিন শেষ হতে না হতেই ভাদ্রের বর্ষণে জনজীবন একেবারেই স্থবির হয়ে পড়েছে।

গত রবিবার প্রায় ২৪ ঘন্টারও অধিক সময় ধরে একটানা অতিবর্ষণের কবলে গ্রামবাংলার পথঘাট, কাচা, পাকা, আধাপাকা ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এদিকে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে তলিয়ে গেছে আমন ধানের বীজতলা, ভেসে গেছে পুকুর ও ঘের। পাটকেলঘাটার গ্রামগুলোতে দেখা দিয়েছে প্লাবন। অধিকাংশ ঘরবাড়ি জলাবদ্ধতার কবলে পড়ায় পানি বন্দি হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার।

মাহমুদ গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, এ বছর একটি ঘেরে প্রায় ১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি। বৃষ্টিপাতের যে চাপ তাতে পানি ছাপিয়ে গেলে একেবারে সর্বশান্ত হয়ে যাবো। সরেজমিনে দেখা গেছে, থানার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জলাবদ্ধতার কবলে।

রাঢ়ীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমিরা বালিকা বিদ্যালয় সহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে হাটু পানিতে নিমজ্জিত। বাড়ির আঙিনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে দিনাতিপাত করছে খেটে খাওয়া সাধারন মানুষগুলো। একদিন শ্রম না দিলে যাদের পেটে আহার জোটে না তারা পড়েছেন মহাবিপাকে।

কুমিরা গ্রামের মোকাম সরদার জানান, এতো বর্ষায় কেউ কাজে নিতে চাই না। এভাবে আবহাওয়া চলতে থাকলে পেটে পাথর বাধা ছাড়া উপায় থাকবে না।

জানা যায়, এখানকার প্রধান ফসল পান চাষ হওয়ায় জীবিকার খুব একটা কষ্ট হয় না। কিন্তু গেল বৃষ্টিতে অনেকের বরজ পানিতে তলিয়ে গেছে। আবার অনেকের ক্ষেত মাটিতে শুয়ে পড়েছে। কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ গোলাম ভরাক্রান্ত মনে জানান, অতি বর্ষণের কবলে আমার ইউনিয়নের বাসিন্দারা অনেকে পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি পানির ভেতর বসবাস করছি। দিনভর খেটে খাওয়া মানুষগুলোর একটু খোজ নেওয়ার চেষ্টা করছি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।