পাটকেলঘাটায় এ বছর পাটের বাম্পার ফলন

এস.এম মফিদুল ইসলাম, পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি ॥  সোনালী আশ পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল। নিজ গুণে এ ফসলটি অনেক আগেই জায়গা করে নিয়েছে বর্হিবিশ্বে। এ ফসলটির মাধ্যমে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক বানিজ্যে রপ্তানির মাধ্যমে অর্থ আয় করে থাকেন আমাদের কৃষকরা। স্বল্প পরিশ্রম আর অল্প অর্থ ব্যয়ে সহজে এ ফসলটি উৎপাদনের মাধ্যমে টাকা উপার্জন করা সম্ভব।

পাটকেলঘাটা সহ তালা উপজেলাতে ইতোমধ্যে পাট গাছ কাটা শুরু করেছে কৃষকরা। অনুকুল আবহাওয়া আর ফসলি ক্ষেতে জলাবদ্ধতা না থাকায় এ বছর অধিকাংশ কৃষক পাট চাষে বেশ বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তবে বিগত কিছু দিন আগে থেকে অতি বৃষ্টির কবলে পড়ে নিচু এলাকার জমি গুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সঠিক পরিপক্কতা না পাওয়ায় বিনষ্টের সম্ভাবনায় আগেভাগেই পাট গাছ কাটা শুরু করে দিয়েছে। এ অঞ্চলে সাধারণত ২ ধরনের পাট চাষ হয়ে থাকে। লাল জাতের পানি সহনশীল ও সাদা জাতের উচু জমিতে এ বীজ বপন করা হয়।

এ ফসলটি আমাদের কৃষকরা বৈশাখ জৈষ্ঠ্য মাসে জমিতে চাষ দিয়ে বীজ বপন করেন। বিস্তৃত মাঠ আর নদের চর এলাকাগুলোতে পাট গাছের সমাহার বেশ লক্ষ্য করা যায় তালা উপজেলাতে। আগাছা পরিষ্কার আর সামান্য সার পানি ও কীটনাশক প্রয়োগ করেই শ্রাবন মাস নাগাদ এ ফসলটি কাটা যায়। এক একটি পাট গাছ সাধারণত ১০/১২ হাতের অধিক লম্বা হয়ে থাকে। থানার কুমিরা গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র শহিদুল ইসলাম বলেন, রোদ বৃষ্টিতে ভিজে পুড়ে আমার মতো কৃষকরা তাদের সোনালী আশ পাট ঘরে তোলার আশায় বুক বাধেন। এ বছর পাটের ভাব খুবই ভালো বিধায় বাম্পার ফলন হয়েছে। তাছাড়া এ বছর পাটের বেশ বাম্পার ফলন হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়।

পাটের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা তাদের ন্যায্য মুল্যে পাট বিক্রি করতে পারবেন বলে একাধিক পাট ব্যবসায়ী জানান। কুমিরা কদম তলার পাট ব্যবসায়ী আব্দুল বারি, আজিজুল ইসলাম, আমিনুর রহমান, মিলন জানান, এ বছর পাট চাষের বেশ বাম্পার ফলন হয়েছে। পাটের আধা বয়স হতেই অনেক কৃষক আমাদের নিকট হতে অগ্রিম টাকা নিয়েও গেছে। এ বছর কৃষকরা সঠিক ন্যয্য মুল্যে তাদের পাটের দাম পাবেন বলে আশা করছি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।