পরিবেশ-প্রতিবেশ দূষণে হুমকিতে জনজীবন” শীর্ষক আজকের ওয়েবিনারের

পরিবেশ-প্রতিবেশ দূষণে হুমকিতে জনজীবন” শীর্ষক আজকের ওয়েবিনারের

উন্নয়ন দর্শন নিয়ে ভাবতে হবে,দেশের উন্নয়ন দর্শন নিয়ে চিন্তার সময় এসেছে। আমরা কি শুধুই অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকটি দেখবো না সার্বিক পরিবেশ-প্রতিবেশকে মূল্যায়ন করবো। বর্তমানে সেই জায়গায় হাত দেয়ার কথা ভাবতে হবে। কেন না যে উন্নয়ন জীবনকে, অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে তা কি সত্যিই উন্নয়ন?

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটসের উদ্যোগে “পরিবেশ-প্রতিবেশ দূষণে হুমকিতে জনজীবন” শীর্ষক ওয়েবিনারে সভাপ্রধানের বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ এইচ এম সাদাত এ কথা বলেন। এতে মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক আনন্দবাজার।

অধ্যাপক ডা. মনি লাল আইচ লিটু বলেন, আমরা ৫ বাজার বছর আগের বনের পরিবেশে ফিরে যেতে পারবো না। তবে পরিবেশকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে করে সবাই সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে মানুষের বসবাসের বয়স ৪ মিলিয়ন বছর। আমাদের জীবনধারণটি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কেননা আমরা সূর্য ডুবলে ঘুমিয়ে যায় ও সূর্য উঠলে জেগে উঠি। পৃথিবীতে এটির সময়কাল ২৪ ঘণ্টা ও মঙ্গলগ্রহে ২৪.২ ঘণ্টা। সেভাবেই আমাদের শরীর ও স্বাস্থ্য গঠিত ও পরিচালিত হয়। ২০ হাজার বছর আগে আমরা বনজঙ্গল, পাহাড়-পর্বত ও নদী বা সাগরের নিকটে বসবাস করতাম। সে কারণেই আমরা অবসরে সেসব জায়গায় চলে যাই।

ডা. মনি লাল আইচ লিটু বলেন, বিদ্যুৎ আবিষ্কারের আগে জীবনটি প্রকৃতিনির্ভর। লাইট ইমভেশনের কারণে জীবনে ডিপ্রেশন ও ম্যানিয়া দেখা দিয়েছে। ঘুম কম হচ্ছে, মানসিক বৈকল্য দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় আমরা শিল্প-কলকারখানা, বিদ্যুৎ, মোবাইল, তথ্য-প্রযুক্তিকে অস্বীকার করতে পারি না। তবে এসবের ভালো ব্যবহার করতে পারি।

অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, জাতিসংঘ ও বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার বেধে দেয়া শব্দের পরিমাপ আমরা অনেক আগেই অতিক্রম করেছি। দেশের শব্দ ও বাতাসের দূষণ এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, তা থেকে সহজে ফিরে আসাটা কঠিন। এ নিয়ে পথেঘাটে কাজ করতে গিয়ে আমার নিজের কানই সমস্যা দেখা দিয়েছে। দুটি কানের শ্রবণ সমস্যা প্রকটাকার ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, নগর অঞ্চলের পরিবেশ দূষণের অবস্থা এমন যে এখানে সর্বঙ্গে ব্যথ্যা ওষুধ দিব কোথা? পরিবেশের কোন উপাদনই আসলে এখানে ভালো নেই। শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ, মাটি দূষণ এমনকি আকাশ পর্যন্ত দূষিত হয়ে যাচ্ছে। দূষণে দূষণে একাকার। ঢাকা শহরসহ অন্য শহরের শব্দের মান মাত্রায় দ্বিগুণের বেশি দূষণ হচ্ছে। প্রধান শব্দ দূষণের উৎস গাড়ির হর্ন। ৮০ ভাগই হর্ন থেকেই হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোলিক হর্ন ৩০ ভাগ গাড়িতে লাগানো আছে। এটির কারণে স্থায়ী বধিরতা হতে পারে। গর্ভের বাচ্চাও ক্ষতির শিকার হয়।
ড. মজুমদার বলেন, ঢাকার নীরব এলাকায় দিগুণের বেশি শব্দ দূষণ হচ্ছে। সাধারণ এলাকায় ৯০ ভাগ সময়েই মান মাত্রার চেয়ে বেশি শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।
অধ্যাপক ড. এ এইচ এম সাদাত বলেন, আমাদের উন্নয়ন নিয়ে ভাবতে হবে। কেননা এখন ধরনের উন্নয়ন জীবনকে ঝুঝকিতে ফেলছে। পরিবেশ-প্রতিবেশকে ধ্বংস করছে সেটি উন্নয়ন কিনা? এসব উন্নয়ন শুধু অর্থনীতি না মানবজীবনের জন্য হুমকি তৈরি করছে কিনা।
অধ্যাপক ড. এ এইচ এম সাদাত বলেন, কেননা শুধু ঢাকা বা শহরাঞ্চলের উন্নয়ন পুরো দেশের উন্নয়ন নয়। এই উন্নয়নে পরিবেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আগামী প্রজন্মকে ধ্বংস করছে তাকে কিভাবে উন্নয়ন বলা যায়। অতএব উন্নয়ন হতে হবে সার্বিক কল্যাণে।
তিনি বলেন, ঢাকায় বসবাসরতের গড় আয়ু ৫ হতে ৭ বছর কমে যাচ্ছে পরিবেশ দূষণে।
আমাদের কোন আইন কার্যকর হবে না যা সমাজ না নিবে। এটি সাধারণ মানুষকে আমরা জানাতে পারি নাই। পৃথিবীর ব্যালেন্স নষ্ট হলে বসবাসেরযোগ্যতা হারাবে। হয়তো পৃথিবী থাকবে কিন্তু কোন প্রাণ বা প্রাণী থাকবে না।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এইচ এম সাদাত এতে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইএনটি অ্যান্ড হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রধান এবং অ্যাসোসিয়েশন অব সার্জনস ফর স্লিপ অ্যাপনিয়া বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মনি লাল আইচ লিটু ‘পরিবেশ ও প্রতিবেশ দূষণে চিকিৎসা বিজ্ঞানেকরণীয়’ শীর্ষক প্রধান অতিথির ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যায়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার ‘বায়ুদূষণে সমস্যা ও প্রতিকার’ বিষয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখবেন। পরিবেশচিন্তক ও দৈনিক আনন্দবাজারের বার্তা সম্পাদক নিয়ন মতিয়ুলের উপস্থাপনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির আহ্বায়ক ফারুক আহমাদ আরিফ।
আরো অংশ নেন ড. মাহমুদা পারভিন ও ড. গুলশান আরা লতিফা। এ ছাড়াও গণমাধ্যমে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ। প্রযুক্তিতে ছিলেন জীম মণ্ডল ও শাকিরুল হক তরু।

ড. গুলশান আরা লতিফা বলেন, শব্দদূষণের কারণে ইকোসিস্টেম নষ্ট হচ্ছে। তাতে শুধু মানুষ নয় প্রাণিজগতও হুমকির মুখে পড়েছে। পশু-পাখি, সামুদ্রিক প্রাণিগুলোর জীবনাচার নষ্ট হচ্ছে। তিনি একটি ঘুঘু পাখির উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমার বাসার পাশে একটি ঘুঘু পাখিকে ডাকতে দেখলাম কিন্তু তার ডাকে যে অপর পাখিটি সাড়া দেবে তা শব্দ দূষণের কারণে হচ্ছে না। এই শব্দদূষণের কারণে পাখিরা পথ হারিয়ে প্রাণবিসর্জন দিচ্ছে।
তিনি বলেন, সামদ্রিক জীবনাচার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ফলে খাদ্যব্যবস্থায় বিরাট সমস্যা তৈরি হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
সংবাদ প্রতিনিধি

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।