নরেন্দ্র মোদী কী কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে যাচ্ছেন?

নরেন্দ্র মোদী কী কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে যাচ্ছেন?
নরেন্দ্র মোদী

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অল্প কিছুদিন আগে নরেন্দ্র মোদী একটা টুইট বার্তায় বলেছিলেন, তিনি আকাশবাণী ও দূরদর্শনের সংবাদ বিশ্বাস করেন না; তিনি পূর্ণ আস্থা রাখেন বিবিসি’র সংবাদের উপর। বিবিসি এখন আর নরেন্দ্র মোদীর গুড বুকে নেই; কারণ বিবিসি নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ভারত সরকার বিবিসি’র সেই প্রতিবাদটি নিজ দেশে নিষিদ্ধ করেছে। বিরোধী দলের ছাত্র সংগঠন সেই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শনের চেষ্টা করেছে, তখন বিজেপি কর্মীরা তাদের মেরে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। এরপর আয়কর দপ্তরের লোকজন বিবিসি কার্যালয়ে একটানা তিন দিন তল্লাশি চালিয়েছে। বিবিসি কার্যালয়ে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়িতে যেতে দেওয়া হয়নি; তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ পর্যন্ত সিজ করা হয়েছে। এই ঘটনায় ব্রিটিশ সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সংসদ সদস্যরা পর্যন্ত বিরক্তি গোপন রাখতে পারেননি।

বিজেপি সরকার চাইলে বিবিসিকে ভারত থেকে তাড়িয়ে দিতে পারে। কিছুদিন আগে আ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ভারত ছেড়ে চলে গেছে। যাওয়ার আগে তারা মনের কষ্টের কথা বলে গেছে যে, ভারতে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বড়ই মুশকিল। বিবিসি হাইকোর্টে গিয়েছে। হাইকোর্ট বিবিসি’র অভিযোগ আমলে নিয়েছে; এজন্য আরএসএস এর তরফ থেকে হাইকোর্টের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে যে, হাইকোর্ট জনগণের ট্যাক্সের টাকায় রাষ্ট্রের স্বার্থ বিরোধী কাজ করছে।

বিবিসি ছাড়াও নরেন্দ্র মোদীকে বিব্রতর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে, শর্ট সেলার হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার কারণে গৌতম আদানী সরকারের কাছ থেকে একচেটিয়া সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন এবং তাতে তার সম্পদ বেড়েছে ২৫০০ গুণ। গৌতম আদানী হিন্ডেনবার্গ এর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার হুমকি দিলেও, এখন পর্যন্ত মামলা দায়ের করা হয়নি। আইনজ্ঞ মহলের ধারণা, মামলা করলে – কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসবে।

সুইচ ক্রেডিট ব্যাংক এবং আমেরিকার সিটি ব্যাংক, আদানী গ্রুপকে ব্লাকলিস্টেড করেছে। হাঙ্গেরিয়ান বংশোদ্ভূত ইহুদি ধনকুবের ৯২ বছর বয়স্ক জর্জ সোরস, আদানী গ্রুপের বিরুদ্ধে তদন্ত না করায়- নরেন্দ্র মোদীর কঠোর সমালোচনা করেছেন। বিজেপি সরকারের মন্ত্রী স্মৃতির ইরানী এবং জয়শংকর, ভারতবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন – এই অপমানের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে।

বিশেষজ্ঞ মহলে প্রশ্ন উঠেছে, নরেন্দ্র মোদী কী ইন্দিরা গান্ধীর মতন কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে যাচ্ছেন?

ভারত ছাড়া তৃতীয় বিশ্বের অন্য কোন দেশে গণতন্ত্র নেই। ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, প্রতিটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যেতে চায়; নির্বাচিত দলগুলো ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। যে কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য থাকে, জনসাধারণকে খুশি রাখা। জনতুষ্টিবাদী নীতি গ্রহণ করতে গিয়ে, রাষ্ট্রের স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হয়। যার ফলে বিশাল জনগোষ্ঠী দারিদ্রসীমার নিচে চলে গেছে এবং কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। রাজনৈতিক দল চালাতে অর্থ লাগে, এজন্য দলীয় অনুগত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী রয়েছে – যারা পিছনের দরজা দিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যায়। তবে আদানী গ্রুপের কেলেঙ্কারিটা সাংঘাতিক রকম বাড়াবাড়ি পর্যায়ের। বিশ্ব ইতিহাসে এত বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির দ্বিতীয় নজির নেই।

বছর তিনেক আগে ভারতীয় সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতা আদানী গ্রুপের দুর্নীতি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন লিখেছিলেন। এরপর আমেদাবাদ(গুজরাট) হাইকোর্টকে ব্যবহার করে, ৬৭ বছর বয়সী পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতার বিরুদ্ধে ৬টি মানহানির মামলা দিয়ে- তাকে দৌড়ের উপর রাখা হয়েছে। সরকারের উচ্চ মহল থেকে চাপ সৃষ্টি করে, পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতাকে চাকরিচ‍্যুত করা হয়েছে। হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ ভাগ্যবান, তারা আমেরিকান প্রতিষ্ঠান – ভারতীয় হলে এতদিনে অস্তিত্ব থাকত না।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।