নমঃশূদ্র বর্ণের কোন শাস্ত্রীয় ভিত্তি নেই

পরিতোষ আচার্যঃ সনাতনধর্মে বর্ণ চারটি – ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র। চারটিই কর্মগুণ অনুযায়ী, জন্ম গুনে নয়৷ বেদ, উপনিষদ, গীতায় তাই বলা হয়েছে৷ যেমন কোন মানুষ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে পরীক্ষায় না পাস করা পর্যন্ত তাকে ইঞ্জিনিয়ার বলা যায় না৷ ঠিক তেমনি প্রতিটি বর্ণই এরকম কর্মগুণের আধার।
সমাজে কেউ চাষী, কেউ মুচি, কেউ ডাক্তার, কেউ জর্জ, কেউ সেনাবাহিনীর অফিসার, কেউ শিক্ষক ইত্যাদি হয় তাদের কর্ম গুণে৷ একেক জনের উপার্জন ও অর্থনৈতিক মূল্যায়ণ একেক রকম হয়, তাই বলে একজন চাষীকে একজন ডাক্তার ছোট বলার অধিকার নেই, তেমনি অন্যান্য কর্মগুণের ক্ষেত্রেও ৷
সবগুলোই একে অপরের পরিপূরক। চাষী উৎপাদন না করলে বাকি সবার খাদ্য পাবে না, মেথর পরিষ্কার পরিছন্নতার কাজ না করলে নোংরা ও ময়লার ভেতর সবাইকে বাস করতে হবে। তাই কারো মূল্যায়ণ কারো চেয়ে কম নয়। কর্মগুণে সবাই স্বতন্ত্র। আধুনিক কালে একদল আরেকটি বর্ণের উৎপন্ন করেছে নমঃশূদ্র বর্ণ যার শাস্ত্রীয় কোন ভিত্তি নেই।
পুরাণ ও বল্লাল সেনের উপর ভিত্তি করে কি সনাতনধর্ম চলে? এসব বুঝেও যারা ইচ্ছা করেই নিজেদের নমঃশূদ্র পরিচয় দেয় তাদের নিজেদেরও যথেষ্ট দোষ আছে এ বিষয়ে৷
তাদের হৃদয়ে সংস্কারের কোন চিন্তা নেই আছে কেবল পৃথক ধর্ম সৃষ্টি বা মতবাদ তৈরীর ধ্যাঁন ধারণা৷ বেদ, উপনিষদ, গীতায়  যথার্থ প্রমাণ থাকলেও কিছু স্বার্থন্বেষী কুচক্রী মহল এগুলো মানতে চায় না। আর বোকা সনাতনীরা  সংস্কারপন্থী না হয়ে নিজেরাই নিজেদের সেই জায়গায় আটকে রাখছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
সংবাদ প্রতিনিধি

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।