নবীগঞ্জে সনাতন পরিবার টার্গেট করে হামলা, ভাঙচুর, লুট ও প্রতিমা ধ্বংস

নবীগঞ্জে সনাতন পরিবার টার্গেট করে হামলা, ভাঙচুর, লুট ও প্রতিমা ধ্বংস
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের মান্দারকান্দি গ্রামে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার পর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষের সুযোগ নিয়ে নিরীহ সনাতন পরিবারগুলোর বসতবাড়িতে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুরো এলাকা এখন ভয়ভীতি ও উৎকণ্ঠায় স্তব্ধ। সনাতন পরিবার টার্গেট করে হামলা
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মান্দারকান্দি গ্রামের হরচন্দ্র ভট্টাচার্যের ছেলে সামানন্দ ভট্টাচার্য দীর্ঘ তিন বছর ধরে সেলো মেশিনের মাধ্যমে এলাকায় কৃষিজমিতে সেচ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। এই কাজকে কেন্দ্র করে গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিছ মিয়া ও জিলা মিয়া প্রতি বছর তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চলতি বছর ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হলেও ভয়ে গোপনে ১৪ হাজার টাকা দেন সামানন্দ । বাকি ১১ হাজার টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সামানন্দ ভট্টাচার্যকে নিয়মিত হুমকি ও চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে গ্রামের রাস্তায় সামানন্দ ভট্টাচার্যকে পেয়ে বকেয়া টাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে ইদ্রিছ ও জিলা মিয়া। একপর্যায়ে তাকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। একই দিন বিকেলে মান্দারকান্দি গ্রামে কৃষিজমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে ইদ্রিছ মিয়ার লোকজন ও মজিদ মিয়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালীন পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিরে চলে যায়। এঘটনায় উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ইদ্রিছ মিয়ার লোকজন ধাওয়া দিয়ে মজিদ মিয়া, ঠান্ডা মিয়া ও শাহ মোহাম্মদ কাশেম আলীর বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এরই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন সামানন্দ ভট্টাচার্য।
ইদ্রিছ ও জিলা মিয়ার লোকজন সামানন্দ ভট্টাচার্য্যের দোকান ও বাড়িতে সঙ্ঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয় এবং নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা লুট করে নেওয়া হয়।
হামলাকারীরা স্লোগান দিতে দিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সামানন্দের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এ সময় শিব, নারায়ণ, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর প্রতিমা ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়। বসতঘরের আসবাবপত্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং দুটি কষ্টিপাথরের মুর্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলায় আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
এ বিষয়ে সামানন্দ ভট্টাচার্য বলেন, “দুই পক্ষের সংঘর্ষের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। শুধুমাত্র সেলো মেশিন দিয়ে কাজ করার কারণে চাঁদার পুরো টাকা না দেওয়ায় আমার বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়েছে। আমার পরিবারসহ এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এ দেশে আমরা কতটা নিরাপদ, সেই প্রশ্ন আজ আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে।”
ঘটনার পর থেকে মান্দারকান্দি গ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে ভীতিকর নীরবতা বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করছেন, প্রশাসনের নির্লিপ্ততা ও দুষ্কৃতকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার সংস্কৃতিই বারবার সংখ্যালঘুদের ওপর এমন হামলার সাহস জোগাচ্ছে। তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার, ক্ষতিপূরণ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।