উত্তম কুমার পাল হিমেল, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকে: নবীগঞ্জের আলোচিত কলেজ ছাত্রী তন্নী রায়(১৮) হত্যা মামলার কিনারা করতে পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালালেও এখন পর্যন্ত সদ্বিগ্ধ কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি। শুক্রবার প্রেমিক রানুর বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া সন্দেহ-ভাজনদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে বলে জানাগেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, শুক্রবার সকাল ১১টায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নবীগঞ্জ থানার এস আই মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মোঃ আলাউদ্দিন আহমদ ও পৗর কাউন্সিলর জায়েদ চৌধুরীসহ স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে প্রেমিক রানু রায়ের বাসার গ্রিলের তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তল্লাশীকালে এ বাসা থেকে লাশের সাথে পাওয়া চটের বস্তা ও তারের হুবহু মিল থাকায় তার ও বস্তা আলামত জব্দ করে। পরে ঐ বাসায় ২টি নতুন তালা লাগিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরের জিম্মায় রেখে আসে। ওপর দিকে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থানা পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহভজান কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি ।
এদিকে আলোচিত এ হত্যাকান্ড নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ইতিমধ্যেই মানববন্দন ও নিন্দা প্রস্তাবের পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন। তন্নীর লাশ উদ্ধারের পর ৪ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও থানা পুলিশ কোন ক্লু-উদঘাটন করতে না পারায় আদৌ কি তন্নীর হত্যাকারীরা আইনের আওতায় আাসবে কিনা এ নিয়ে সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন! পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদকালে নবীগঞ্জ ইউ.কে আইসিটি কম্পিউটার ইন্সটিটিউট এর অধ্যক্ষ ফয়সল আহমদ চৌধুরী গত ১৭ সেপ্টেম্বর শনিবার তন্নী ক্লাশ করতে না যাওয়ার কথা জানালেও এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রতিষ্টানের পার্শ্ববর্তী এক্সিম ব্যাংকের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করার পাশাপাশি অন্যভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল। শুক্রবারও নবীগঞ্জে মানববন্ধন অনুষ্টিত হয়েছে। এছাড়া তন্নীর বাসায় নবীগঞ্জ-বাহুবল আসনের প্রয়াত এমপির পুত্র শাহনেওয়াজ মিলাদ গাজী,নবীগঞ্জ উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নারায়ন রায়,কালীপদ ভট্টাচার্য্য,সাধারন সম্পাদক প্রভাষক উত্তম কুমার পাল হিমেলসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ তন্নীর বাসায় যান এবং তার পরিবারের লোকজনকে শান্তনা দেন। একটি সুত্রে জানাযায়, হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করতে বানিয়াচং উপজেলার বিথঙ্গল আখড়া এলাকায় অভিযান চালালে ও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
উল্লেখ্য, গত শনিবার বেলা দেড় টার দিকে তন্মী রায় নবীগঞ্জ ইউ.কে আই,সিটি কম্পিউটার ইন্সটিটিউট এ যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফিরেনি। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়রী করার ৩ দিনের মাথায় উক্ত কলেজ ছাত্রী তন্নী রায়ের বস্তাবন্দি লাশ নদী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।