দেশভাগের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের ৯৮.৫ শতাংশ লোক ছিল অমুসলিম -উষাতন তালুকদার

দেশভাগের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের ৯৮.৫ শতাংশ লোক ছিল অমুসলিম -উষাতন তালুকদার
চট্টগ্রামের ৯৮.৫ শতাংশ লোক ছিল অমুসলিম

১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের ৯৮.৫ শতাংশ লোক ছিল অমুসলিম, যারা বৌদ্ধ, হিন্দু ও খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী। স্বভাবতই অমুসলিম জম্মু জনগণ আশা করেছিল যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারতের সাথে অন্তর্ভুক্ত হবে। এলক্ষ্যে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট জম্মু জনগণ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র রাঙ্গামাটিতে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। বলেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সংহতি সমিতির সহ-সভাপতি, প্রাক্তন সাংসদ উষাতন তালুকদার। চট্টগ্রামের ৯৮.৫ শতাংশ লোক ছিল অমুসলিম

আজ ২৩শে সেপ্টেম্বর (শনিবার) ভারতের কলকাতায় একাডেমি অফ ফাইন আর্টস কনফারেন্স হলে ক্যাম্‌ব (CAAMB – Campaign Against Atrocities on Minorities of Bangladesh) ও অল ইণ্ডিয়া রিফিউজী ফ্রন্ট এর আয়োজনে বাংলাদেশ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়ন ও মানবাধিকার সমস্যা প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের জম্মু জনগণের উপর শুরু হয় নিপীড়ন-নির্যাতন ও অমুসলিম অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রামকে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করার ষড়যন্ত্র, তথা জম্মু জনগণকে জাতিগতভাবে নির্মূলীকরণের কার্যক্রম।

স্বাগত ভাষণে সঞ্চালক ডঃ মোহিত রায় বলেন, যে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার সমস্যার বিষয়টি ভারতে ও আন্তর্জাতিক মহলে দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে এই সভার আয়োজন। ভারতীয় সংস্কৃতির ধারক-বাহক পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম্ম জনগণ হচ্ছে ভারতের বন্ধু ভাবাপন্ন জনগোষ্ঠী। ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত এবং চট্টগ্রাম বন্দর ঘেষা এই পার্বত্যাঞ্চলটি যদি ইসলামী জঙ্গীগোষ্ঠীর অভয়ারণ্যে পরিণত হয়, তাহলে কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, এটা দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর জন্য হবে চরম জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি।

ঊষাতন তালুকদার (সহ সভাপতি পার্বত্য চট্টগ্রাম সংহতি সমিতি, প্রাক্তন সাংসদ, বাংলাদেশ) তাঁর ভাষণে বলেন

গৌতম দেওয়ান ( সভাপতি, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি, বাংলাদেশ) পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও তা না কার্যকরী করার বিষয় নিয়ে বিশদে বক্তব্য রাখেন।

জিষ্ণু বসু (অধ্যাপক, সাহা ইনস্‌টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স) পার্বত্য চট্টগ্রামের নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি সেখানের মানুষের বিশ্বাস ও ভালবাসার কথা জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক মেসবা কামাল তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের সব সরকারের সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর উপর বিদ্বেষমূলক আচরণের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরেন।

গৌতম দেওয়ান ( সভাপতি, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি, বাংলাদেশ) পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রতিরোধের কাহিনী বর্ণনা করেন।

করুণালঙ্কার ভিক্ষু (পীস ক্যাম্‌পেন গ্রুপ, পার্বত্য চট্টগ্রাম) পার্বত্য চট্টগ্রামে ইসলামীকরণের সমস্যার কথা বিবৃত করেন।

তথাগত রায় (প্রাক্তন রাজ্যপাল) পশ্চিমবঙ্গের জনসাধারণকে দেশভাগ ও ইসলামীকরণের সমস্যা সম্পর্কে প্রকৃত ইতিহাস জেনে সচেতন হতে আহ্বান জানান।

উত্তম চক্রবর্তী (সংগঠন সম্পাদক, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ) পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের আন্দোলনের সঙ্গে সমস্ত সংখ্যালঘু জনগণের ঐক্যের কথা ব্যক্ত করেন।

শ্রোতাদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তরের পর সুজিত শিকদার সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সভাগৃহ শ্রোতাদের উপস্থিতিতে পূর্ণ ছিল। আগামী দিনেও এরকম সভা হবে বলে আশা করা হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।