ঢাকা: দেশে থ্যালাসেমিয়া ও অন্যান্য জন্মগত বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীদের সুনির্দিষ্ট তথ্য সংরক্ষণে একটি জাতীয় ডাটাবেজ ও নিবন্ধন ব্যবস্থা (রেজিস্ট্রি) গড়ে তোলার জোর আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান।
রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি (বিটিএস) আয়োজিত ‘রক্তদাতা সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান প্রস্তাবনা ও পরামর্শসমূহ:
জাতীয় ডাটাবেজ তৈরি: বিরল ও জন্মগত রোগীদের সঠিক পরিসংখ্যান ও সহায়তার জন্য সারা দেশে কেন্দ্রীয় রেজিস্ট্রি চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রান্তিক পর্যায়ে স্ক্রিনিং: অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মায়েদের স্ক্রিনিং কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত থ্যালাসেমিয়া শনাক্তকরণ সেবা সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হয়।
স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ: নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মীকে থ্যালাসেমিয়ার উপসর্গ, চিকিৎসা এবং রোগী ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
রোগীর ধাপ নির্ধারণ (Categorization): শনাক্তকরণের পর রোগীদের অবস্থা অনুযায়ী—থ্যালাসেমিয়া মেজর, থ্যালাসেমিয়া মাইনর এবং থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট—এই তিন ভাগে বিভক্ত করে সংবেদনশীলতার সাথে চিকিৎসা প্রদানের তাগিদ দেওয়া হয়।
ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর বক্তব্যে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি তাঁর কন্যা জাইমা রহমানের এ পর্যন্ত ৭ বার স্বেচ্ছায় রক্তদানের মানবিক কাজের কথা উল্লেখ করে তাঁকে অভিনন্দন জানান।
বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ ও সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম।