ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথ ফের চালুর উদ্যোগ, এবার দায়িত্বে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান

ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথ ফের চালুর উদ্যোগ, এবার দায়িত্বে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান
ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথ

রাজধানী ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথ আবার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এবার এই নৌপথ পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটি পুনরায় চালু করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

প্রাথমিকভাবে গাবতলী থেকে সদরঘাট পর্যন্ত ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সড়কপথের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ, নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক ও উপযোগী জলযান নিশ্চিত করা গেলে এবার বৃত্তাকার নৌপথকে টেকসই করা সম্ভব।

রাজধানীর যানজট এড়িয়ে কম খরচে দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করতে ২০০৪ সালে আশুলিয়া থেকে সদরঘাট পর্যন্ত দুটি ছোট লঞ্চ দিয়ে ওয়াটার বাস সেবা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়।

২০১০ সালে একই রুটে আবার দুটি ওয়াটার বাস চালু করা হয়। এরপর ২০১৪ সালে দুই ধাপে আরও ১০টি ওয়াটার বাস যুক্ত করা হয়। কিন্তু যাত্রীসংকট ও ধারাবাহিক লোকসানের কারণে ২০১৬ সালে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় সেবাটি।

বৃত্তাকার নৌপথ উন্নয়ন প্রকল্পে দুই ধাপে নৌপথ খনন, ল্যান্ডিং স্টেশন, টার্মিনালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়। পাশাপাশি ওয়াটার বাস কেনা ও পরিচালনায় ব্যয় হয় আরও প্রায় ৩৮ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ১২২ কোটি টাকা ব্যয়ের পরও প্রকল্পটি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।

প্রকল্পটির ব্যর্থতার চিত্র এখনও দেখা যায় বুড়িগঙ্গার বাদামতলী ঘাটে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে ছয়টি ওয়াটার বাস। দীর্ঘদিন ব্যবহারের বাইরে থাকায় এগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং কোনোটি বর্তমানে ফিটনেস সনদধারী নয়। এসব নৌযান নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি।

তবে অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নতুন পরিকল্পনায় বৃত্তাকার নৌপথ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করছেন।

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার জানান, বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কয়েক দফা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ঢাকা সমন্বিত সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এলাকা পরিদর্শন করেছেন। চিহ্নিত ত্রুটি ও বিচ্যুতিগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জানানো হচ্ছে, যাতে এবার পরিকল্পনাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গাবতলী-সদরঘাট অংশ চালু করলেই পুরো বৃত্তাকার নৌপথের সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাবে না। পুরো রুট চালু করতে হলে নৌযান চলাচলের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কয়েকটি সেতু ভাঙা বা পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন হতে পারে। কারণ কিছু সেতুর উচ্চতা বড় নৌযান চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, অতীতে পরিকল্পনার দুর্বলতার কারণেই প্রকল্পটি ব্যর্থ হয়েছিল। এবার নতুন করে বিনিয়োগের আগে আগের ব্যর্থতার কারণগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করা জরুরি। একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি করে আবারও বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ লোকসানে ফেলার সুযোগ নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদীদূষণ কমানো, নৌপথ ও সড়কপথের মধ্যে কার্যকর আন্তঃসংযোগ তৈরি, আধুনিক জলযান নিশ্চিত এবং পর্যাপ্ত যাত্রীসেবা ও প্রচারণা নিশ্চিত করা গেলে ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথ রাজধানীর গণপরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।