জীবন যুদ্ধে হার না মানা গোলাপগঞ্জের বশর

জাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ: প্রতিবন্ধী মানেই অন্যের উপর নির্ভর হয়ে বেঁচে থাকা নয়, পরিবার কিংবা সমাজের বোঝাও নয়। আত্মসম্মান জলাঞ্জালি দিয়ে সাহায্যের জন্য অন্যের দুয়ারে দুয়ারে ছুটে চলা স্বাভাবিক পন্থা। কিন্তু এর ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঘোষগাও গ্রামের বশর আহমদ (বাদশা)।
নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ,একটি পা হারালেও আত্মশক্তিতে বলিয়ান তিনি। দারিদ্রতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে একটি পানের দোকান দিয়ে রোজগারের রাস্তা তৈরী করেছেন। জীবনের চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েও হার মানেননি বশর। একমাত্র মানসিক শক্তি দিয়েই প্রতিকুলতা জয় করার চেষ্টা করছেন। শোনালেন জীবনের চরম বাস্তব দুর্বিসহ অভিজ্ঞতার কথা। তিনি জানান, তিনি একজন ভাল রাজমিস্ত্রি ছিলেন, তার বয়স যখন ২৫ বছর, তখন রাজমিস্ত্রি কাজ করার সময় ইটের দেয়াল ধসে বাম পায়ে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পায়ের বিভিন্ন অংশ পচন ধরায় তার দুই হাতই কেটে ফেলতে হয়।
চিকিৎসার জন্য পরিবারকে গুনতে হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ। অভাবের সংসারে বশরের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়ে যান উনার বাবা মা। তাদের কষ্টের কথা ভেবে অনেকেই বশরকে ভিক্ষাবৃত্তির পরামর্শ দেয়। কিন্তু বাধ সাধে আত্মমর্যাদাবোধ। না, ভিক্ষাবৃত্তি ভাল নয়, কারো অনুগ্রহ নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভাল বলে বলছিলেন বশর ।
তিনি আরও জানান, পা হারানোর পর থেকেই একের পর এক সমস্যা সামনে এসে দাঁড়াচ্ছিল। ধার দেনা পরিশোধ তো দুরের কথা সংসারের প্রয়োজনীয় খরচই জোগানের মত অবস্থা ছিল না তার। পা হারানো বশরকেতো কেউ কাজ দিবে না। আর তিনিও কাজ তরতে পারবেন না। তাই বলে কি আর থেমে থাকা যায়? অল্প কিছু মূলধন দিয়ে গোলাপগঞ্জ বাজারে পানের পরিবর্তনের যাত্রা শুরু করেন তিনি।
বশর জানান, দূর্ঘটনার ৭ সাত বছর পূর্বে  বিয়ে করেছিলেন তিনি। দাম্পত্য জীবনে তিনি ৩ সন্তানের জনক। স্ত্রী সন্তান নিয়ে কোনমতে সংসার চলে তার। তারপরেও শারীরিক এ অবস্থা নিয়ে আয়- রোজগার করতে পারার মধ্যে আলাদা আনন্দ আছে।
হার না মানা এই প্রতিবন্ধীর স্ত্রী সাজনা বেগম জানান, স্বামী অক্ষম হলেও তার কর্মে তিনি গর্বিত। বুঝে- শুনেই তার সঙ্গে সংসার করছেন। ব্যক্তিগত ও সংসারের আবদার তেমন মেটাতে না পরলেও তাদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন এটাই বড় পাওয়া বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান তার তিনটি মেয়ে। বড় মেয়ে সামনে শাহজালাল একাডেমী থেকে ইন্টার পরিক্ষা দিবে।
এ গ্রামের মেম্বার মানিক মিয়া জানান, প্রতিবন্ধিরা সমাজের বোঝা নয়, এটি প্রমাণ করেছেন বশর । তার এ সাফল্যে গর্ববোধ করে এলাকাবাসী। এ ধরনের প্রতিবন্ধীদের সরকারিভাবে পৃষ্টপোষকতার দাবি তাদের।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।