দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের জমি দখল, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও দেশত্যাগে বাধ্য করার হুমকির অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিজ (এইচআরসিবিএম), বাংলাদেশ চ্যাপ্টার।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজধানীর ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এইচআরসিবিএমের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লাকী বাছার। তাঁর দাবি, সংগঠনটির সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের ৫৭টি জেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধে মোট ৮২৪টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে।
এর মধ্যে ২৪৪টি ঘটনা জমি দখল, হামলা, আক্রমণ ও লুটপাটের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানানো হয়। পাশাপাশি জুলাই মাসেও দেশের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের অন্তত ২০টি ঘটনা নথিবদ্ধ করার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
হবিগঞ্জে জমি নিয়ে হামলার অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাটিয়াজুরী গ্রামের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়। সংগঠনটির দাবি, রবীন্দ্র সরকারের পৈতৃক জমি দখলে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ৯ আগস্ট তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও মারধর করা হয়। এ সময় হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের কাছে ঘটনার ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ থাকার দাবি করা হলেও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
নীলফামারীতে জমি দখল ও দেশত্যাগের হুমকি
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়নে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল, গাছ কেটে ফেলা এবং দেশত্যাগের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
এইচআরসিবিএমের অভিযোগ, ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও সংঘবদ্ধ জনতার কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ভুক্তভোগী পরিবারকে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি সংগঠনটির।
ঝিনাইদহেও দেশত্যাগের হুমকির অভিযোগ
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় একাধিক সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশত্যাগের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে এসেছে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, একজন নাগরিকের ধর্মীয় বা সামাজিক পরিচয় তাঁর আইনগত অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা হতে পারে না। পেশিশক্তি ব্যবহার করে জমি দখল কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে কোনো পরিবারকে নিজ বসতভিটা ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা আইনের শাসনের পরিপন্থী।
এইচআরসিবিএম এসব অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং আক্রান্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কো-অর্ডিনেটর আশিস কুমার অঞ্জন, সিলেট বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর রাকেশ রায়, আইটি সেক্রেটারি সমীর চন্দ্র মিস্ত্রী, উপদেষ্টা অনিল পাল, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জীতেন্দ্র বর্মণ, ঢাকা বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর অমিত বর্মণ, সমাজকর্মী সুস্মিতা কর ও হৃদয় পোদ্দারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।



