মেহের আমজাদ, মেহেরপুর : জনবল সংকটের কারনে ভেঙে পড়েছে মেহেরপুর জেলার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসা সেবা। চিকিৎসা না পেয়ে প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হচ্ছে ভুক্তভোগিরা। জনবল সংকটের কারণে সেবার মানও কমে গেছে।
মেহেরপুর জেলার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের তথ্য মতে, স্বাভাবিক ডেলিভারি, সিজার, শিশুদের সেবা, গর্ভবতী চেকাপ, পরিবার পরিকল্পনা, কিশোর-কিশোরিসহ সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে এ কেন্দ্রটি। কিন্তু ২০১১ সালের পর থেকে এই প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্য সেবা ভেঙে পড়েছে।
মেডিকেল অফিসার ক্লিনিক ও সার্জিক্যাল এনেস্থেসিয়া পদে দুইজন ডাক্তারের পদই শূন্য রয়েছে। বর্তমানে একজন ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ক্লিনিক পদে দ্বায়ীত্বে রয়েছেন। মেহেরপুর সদরসহ গাংনী ও মুজিবনগরের দ্বায়িত্বে থাকায় সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন আসেন মেহেরপুর সদরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে। এতে করে রোগীদের কাংখিত সেবা মিলছে না।
পাশাপাশি অফিসের কাজেও ঘটছে ব্যাঘাত। গুরুতর রোগীরা সেবা না পাওয়ায় অনেক সময় মারাত্মক ঝুঁকির মুখেও পড়ছেন। জনবল সংকটের কারণে কর্মরত সেবিকা ও পরিবার কল্যান পরিদর্শিকাদেরও পড়তে হচ্ছে নানা বিপাকে। ১৬ ঘন্টা থেকে ১৮ ঘন্টা সময় দেওয়া লাগছে মা ও শিশু কল্যণ কেন্দ্রে।
পরিবারের সাথে সময় দিতেও পারছেন না তারা। রোগী ভর্তি না হওয়ায় ফাঁকা পড়ে থাকে অপারেশন কক্ষ ও রোগীদের বেডগুলো। পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা পদে ডেপুটেশন দিয়ে ৬জন থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ২জন। ডাক্তার না থাকায় ২ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সিজার কার্যক্রম।
চিকিৎসা সেবা সেবা নিতে আসা রোগী সেলিনা জানান, আমরা এখানে আসি সেবা নেওয়ার জন্য কিন্তু ডাক্তার না থাকার কারনে আমরা হয়রানির শিকার হই। বাচ্চাদেরও সেবা পাওয়া যায় না। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা নুরজাহান খাতুন জানান, গুরুতর রোগিরা সেবা না পাওয়ায় অনেক সময় মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে।
জনবল সংকটের কারণে কর্মরত সেবিকাদেরও ১৬ ঘন্টা থেকে ১৮ ঘন্টা সময় দেওয়া লাগে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে। কর্মরত পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা নিলুফা ইয়াসমিন জানান, আগে ৬০ থেকে ৭০ টি ডেলিভারি রোগির চিকিৎসা সেবা দেওয়া হলেও এখন তা নেমে এসেছে ৫ থেকে ১০ জনে।
মেহেরপুর জেলার মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ক্লিনিক (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মো ঃ রফিকুল ইসলাম জানান, জনবল নিয়োগের মাধ্যমে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সৃষ্ট সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।