× Banner
সর্বশেষ
পাক-অধিকৃত কাশ্মিরে নির্বাচন বর্জন ঘিরে সংঘর্ষ, বহু হতাহতের দাবি আজ শ্রীশ্রীব্যাস পূজা ও গুরুপুর্ণিমা, জেনে নিন কেন গুরুপুর্ণিমা আজ বুধবার (২৯ জুলাই) আপনার রাশিফলে কী রয়েছে তা বেশ কৌতুহলের আজ ২৯ জুলাই  বুধবার পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক – ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ নবীগঞ্জে আমগাছ থেকে ঝুলন্ত যুবকের মরদেহ উদ্ধার কৃষিখাতে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চার মাসের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ডিজিটাল এলিভেশন মডেল করার নির্দেশ রাজধানীর লালবাগে ২৪ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ বাংলাদেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী বেইজিং – চীনা রাষ্ট্রদূত

চট্টগ্রামে শতাধিক শক্তিশালী কিশোর গ্যাং

admin
হালনাগাদ: সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

শহরের ১৬ এলাকা শনাক্ত তালিকা করছে পুলিশ

রাজিব শর্মা, চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রাম মহানগরের ১৬ এলাকায় শতাধিক কিশোর গ্যাং গ্রুপ গজিয়ে উঠেছে। গত মঙ্গলবার কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান ইসফার খুন হওয়ার পর এই গ্রুপগুলোর নাম উচ্চারিত হচ্ছে।

ফলে পুলিশও এদের তালিকা তৈরিতে নেমেছে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) সালেহ মোহাম্মদ তানভির জানান, নগরের কিশোর গ্যাং গ্রুপগুলোর তালিকা তৈরি করতে প্রত্যেক থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে তালিকা তৈরি হবে। এরপর কিশোর গ্যাং গ্রুপ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের জনবল কম থাকায় স্কুল পর্যায়ে কাজ করা সম্ভব নয়। তাই কমিউনিটি পুলিশিং ও অভিভাবকদের সচেতন করে কিশোরদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরের ১৬ থানা এলাকায় শতাধিক কিশোর গ্যাং গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপ গঠনে ভূমিকা পালন করছেন ছাত্র সংগঠনের নেতারা। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গেলে ছাত্র সংগঠনের নেতা ছাড়াও অনেক সিনিয়র নেতা ফোন করে বসেন।

তাই পুলিশ এত দিন গ্যাং গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে উত্থান হয়েছে এসব গ্যাং গ্রুপের। চট্টগ্রামে গ্যাং গ্রুপের শুরু হয় জামাল খান এলাকাকেন্দ্রিক। পরে তা নগরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি স্কুল ও কলেজে একাধিক গ্যাং গ্রুপ রয়েছে। এমনকি স্কুলে শ্রেণিভিত্তিক ও এলাকাকেন্দ্রিক গ্রুপও রয়েছে। খেলা কিংবা অন্যান্য বিষয়ে পান থেকে চুন খসলেই এরা নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধরনের মাদক ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে। কিছু কিছু গ্রুপের বিরুদ্ধে ইভ টিজিং ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। এরা সামান্য কোনো বিষয় নিয়েও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং হতাহতের ঘটনা ঘটায়। বোমাবাজিসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসে এরা পারদর্শী হয়ে উঠেছে।

কিশোর গ্যাং গ্রুপঃ নিয়ন্ত্রণ করছে গডফাদাররা

চট্টগ্রাম মহানগরের আইনশৃঙ্খলায় সাক্ষাৎ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে শতাধিক কিশোর গ্যাং গ্রুপ। মহানগরের ১৬ থানা এলাকায় খুন, অপহরণ, মারধর— হেন অপরাধ নেই যা তারা করছে না।

মাদকের সঙ্গেও রয়েছে কিশোর গ্যাং গ্রুপগুলোর সংশ্লিষ্টতা। গত মঙ্গলবার কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান ইসফারের খুনের পর কিশোর গ্যাং গ্রুপগুলোর নাম উচ্চারিত হচ্ছে জোরেশোরে। দেরিতে হলেও পুলিশ প্রশাসন এই অপরাধী চক্রের সদস্যদের নামের তালিকা তৈরিতে নেমেছে। বন্দরনগরের প্রতিটি থানা পুলিশকে এ ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিএমপির পক্ষ থেকে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম নগরের ১৬ থানা এলাকায় শতাধিক কিশোর গ্যাং গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপ গঠনে নেপথ্য ভূমিকা পালন করছেন ছাত্র সংগঠনের তথাকথিত নেতারা। কিশোর গ্যাং গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে তাদের গডফাদাররা ফোন করে বসেন। তাই পুলিশ এত দিন গ্যাং গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে সংশয়ে ভুগেছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের অশুভ উদ্দেশ্যে উত্থান হয়েছে এসব গ্যাং গ্রুপের।

চট্টগ্রামে গ্যাং গ্রুপের শুরু জামালখানে। পরে তা নগরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি স্কুল ও কলেজে একাধিক গ্যাং গ্রুপ রয়েছে। খেলা কিংবা অন্যান্য বিষয়ে পান থেকে চুন খসলেই এরা নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ধরনের মাদক ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে। কিছু কিছু গ্রুপের বিরুদ্ধে ইভ টিজিং ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ আছে। সামান্য বিষয় নিয়েও গ্যাং গ্রুপগুলোর সদস্যরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বোমাবাজিসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসেও এরা পারদর্শী। চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলার জন্য কিশোর গ্যাং গ্রুপের তৎপরতা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। এর সঙ্গে তথাকথিত ছাত্র সংগঠনগুলোর সংশ্লিষ্টতাও দুর্ভাগ্যজনক। স্কুলছাত্র আদনান ইসফারের হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ গ্যাং গ্রুপগুলোর তৎপরতা রোধে তালিকা তৈরির যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসার দাবিদার। তবে এ ধরনের ঘটনা শুধু চট্টগ্রামেই সীমাবদ্ধ নয়, রাজধানীসহ সারা দেশেই রয়েছে কিশোর গ্যাং গ্রুপের তৎপরতা। যাদের সঙ্গে রয়েছে অপরাজনীতির সংশ্লিষ্টতা। আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে সেসব ক্ষেত্রেও পুলিশকে নজর দিতে হবে।

তাদের গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..