চট্টগ্রামে আরও দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

চট্টগ্রামে আরও দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের ঘটনার উত্তেজনা না থামতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও দুটি ধর্ষণ ও একটি ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সামনে এসেছে।

পুলিশ জানায়, খুলশী আবহাওয়া অফিসসংলগ্ন রেললাইনের পাশের একটি মসজিদসংলগ্ন মক্তবে একটি ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক ওই মক্তবে শিক্ষকতা করতেন এবং এলাকাতেই বসবাস করতেন। ভুক্তভোগী দুই বোনের বয়স আনুমানিক ১০ ও ৬ বছর। তারা ওই শিক্ষকের কাছেই পড়ত।

ভুক্তভোগী এক শিশুর খালা বলেন, ওই দুই শিশু মক্তবে পড়তো। শুক্রবার সকালে কেউ মক্তবে যায়নি কিন্তু হুজুর ওদের দুজনকে ডেকে নিয়ে যায়। ভোর ৬টা থেকে সাতটা পর্যন্ত মক্তবে পড়ানো হয়। কিন্তু সাড়ে আটটা পর্যন্ত ওরা বাসায় না আসায় মক্তবে গিয়ে দেখা যায় তারা একটি রুমের ভেতরে আছে। রুমের দরজা বাইরের দিক থেকে বন্ধ। শিশুরা জানায় হুজুর তাদের জন্য নাস্তা আনতে গেছে। এরপর তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, বাকলিয়ার ঘটনার পর আমাদের মনে সন্দেহ হতে থাকে। আমরা সারাদিন ওর (ভুক্তভোগী শিশু) কাছে কী হয়েছে জানতে চেয়েছি। কিন্তু কিছুতেই ঘটনার বিষয়ে বলেনি।

পরে রাতের দিকে শিশুটির কথা থেকে ‘খারাপ স্পর্শের’ বিষয়টি উঠে আসে বলে জানান শিশুটির খালা।

খুলশী থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক ও ভুক্তভোগী দুই শিশুকে থানায় নেওয়া হয়েছে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”

এর আগে শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে নগরের বায়েজিদ থানার মোহাম্মদ নগর এলাকা থেকে পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ হাসান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ১০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ঘরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে শিশুটি পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানালে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

বায়েজিদ থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, “মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির চিকিৎসা ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

একইদিন দুপুর দেড়টার দিকে ডবলমুরিং থানার হাজীপাড়া এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয়রা এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত লোকজন বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা পুলিশ ও অভিযুক্ত অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল।

পরে বিচারের আশ্বাস দিলে পুলিশ অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে অভিযুক্তের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার বাকলিয়া এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল ৫টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। সংঘর্ষে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
লেখক / প্রতিবেদক

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।