আগামীকাল ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান, মোকাবিলায় প্রস্তুত সরকার

আগামীকাল ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান, মোকাবিলায় প্রস্তুত সরকার

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যালোচনা অনুযায়ী যদি ঘূর্ণিঝড় আম্পান তার গতি ও দিক পরিবর্তন না করে তাহলে আগামীকাল ১৯ মে মঙ্গলবার  রাতে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ মোকাবিলায় বরিশাল জেলায় ১ হাজার ৫১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে। উপকূলীয় জেলাগুলোতে সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখার জন্য এরই মধ্যে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে যেন মানুষজনকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা যায় সে লক্ষ্যে এবার আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপকূলীয় জেলাগুলোর জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকালে যাতে খাবারের অভাব না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার এবং গো-খাদ্যের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে। দুর্যোগকালীন বিদ্যুৎ না থাকলে তার বিকল্প ব্যবস্থা করে রাখার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ মোকাবিলায় বরিশাল জেলায় ১ হাজার ৫১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে। আর এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বরিশাল জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি বেশ কয়েকটি সভা করেছেন। যে সব সভায় বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ওইসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেও মাঠপর্যায়ে কাজ চলমান রয়েছে।

যার মধ্যে সাইক্লোন শেল্টারের বাইরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার ব্যবস্থা করা, সব ধরনের সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সেখানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা, জেলার সব স্থানে মাইকিং ও আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য প্রচার করা, মাঠে থাকা বোরো ধান দ্রুত কেটে ফেলার ব্যবস্থা করতে কৃষককে পরামর্শ দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে তাদের ধান কাটতে সহযোগিতা করা, প্রাণিসম্পদ রক্ষায় গুরুত্ব আরোপ করা, সিপিপি, রেড ক্রিসেন্টসহ সব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুত রাখা।

এছাড়াও জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম খোলার কাজ চলমান রয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।