× Banner
সর্বশেষ
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে – ককরোচ পার্টি কালীগঞ্জে জেলা প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ উদ্বোধন নড়াইলে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর যশোরে বিজিবির অভিযানে ৪৬ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা মূল্যের ২ পিচ স্বর্ণবারসহ আটক-১ ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় এমপি গাজী নজরুল ইসলামের শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা রোগ শনাক্তে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে স্বাস্থ্যকর্মীরা -স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে – স্বাস্থ্যমন্ত্রী শৈলকুপায় ট্রাক চাপায় পথচারী নিহত হরিণাকুন্ডুর সোনাতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ঘাটতির পর বেনাপোল কাস্টমসের নতুন লক্ষ্য ১০,৫৮৮ কোটি

গৌরনদী (বরিশাল)প্রতিনিধি

গৌরনদীতে সরকারি সার পাচার; কৃষি কর্মকর্তার নীরবতায় রক্ষা পেল সিন্ডিকেট

ACP
হালনাগাদ: রবিবার, ২০ জুলাই, ২০২৫

২০ জুলাই ২০২৫ইং

এড়ঁৎহধফর..ঘবংি..ঋরষব..০১

ছবিসহ

বরিশালের গৌরনদীতে রাতের আধারে সরকারি কৃষি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত সার কালোবাজারে পাচারকালে একটি ভ্যান আটক করেছে স্থানীয় জনতা। তবে কৃষি কর্মকর্তার রহস্যজনক নীরবতায় শেষ পর্যন্ত পাচারকারীরা পার পেয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপজেলার টরকী বন্দর বড় ব্রিজের উপর থেকে ভ্যানটি আটক করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই টরকী বন্দর এলাকার মেসার্স শিশির এন্টারপ্রাইজ নামের একটি সার বিক্রয় প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে সরকারি বরাদ্দের সার গোপনে পাচার করে আসছে। শনিবার রাতে ফের পাচারের সময় একটি ভ্যানে সার বহন করতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয় তারা ভ্যানটি আটক করে ভ্যানচালক শাহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে ভ্যানচালক জানান, ডিএপি সারের বস্তাগুলো পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ রমজানপুর গ্রামের সিদ্দিক বেপারী কিনেছেন। কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি মালামাল পরিবহনের সময় কোনও বৈধ চালান, ক্যাশ মেমো কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার শেখকে ফোনে জানালে তিনি বরিশালে অবস্থান করছেন জানিয়ে ঘটনাস্থলে না যাওয়ার কথা জানান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কোনও প্রতিনিধি পর্যন্ত পাঠাননি। ফলে জনতার হাতে আটক ভ্যানটি অদৃশ্য চাপে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এদিকে সার ক্রেতা সিদ্দিক বেপারী জানান, শিশির কুন্ডুর দোকান থেকে প্রতি বস্তা ১,৭০০ টাকা দরে ১০ বস্তা ডিএপি সার কিনেছেন তিনি। অথচ সরকারি নির্ধারিত দরে প্রতিটি বস্তা বিক্রি করার কথা ১,১৬০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি বস্তায় ৫৪০ টাকা করে অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে যা ভর্তুকি আত্মসাৎ ও কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

সিদ্দিক বেপারী আরও বলেন, শিশির কুন্ডুর কর্মচারী নাসির আমাদের পরিচিত। আমরা তার দোকান থেকে প্রায়ই সার কিনি। কখনো ক্যাশ মেমো দেয়া হয় না, জাতীয় পরিচয়পত্রও দিতে হয় না।

শিশির কুন্ডুর কর্মচারী নাসির বলেন, আগেও আমরা এভাবেই সার বিক্রি করেছি। আমাদের এই দোকানে কৃষকদের কাছ থেকে পরিচয়পত্র কিংবা অন্য কোনও বৈধ কাগজপত্র গ্রহণ করা হয় না।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক শিশির কুন্ডু ভোটার আইডি যাচাই না করার দায় এড়িয়ে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যদিও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষি উপকরণ বিক্রির সময় কৃষকের পরিচয়পত্র যাচাই বাধ্যতামূলক এবং বিক্রির পর ক্যাশ মেমো প্রদানের নিয়ম রয়েছে।

সার পাচারের বিষয়ে জানতে গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সার ডিলারের পক্ষ নিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। যারা এ ধরনের অভিযোগ করেছে তাদেরকে প্রমাণসহ আমার কাছে পাঠিয়ে দিন।

কৃষি কর্মকর্তা তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি যদি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হতো তাহলে সারারাত তারা ভ্যানটি আটকে রাখেনি কেন? আমি সকালে গিয়ে বিষয়টি সরেজমিনে দেখতাম।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও শিশির কুন্ডু একাধিকবার সরকারি সার পাচারে জড়িত থাকলেও কৃষি অফিস থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং রহস্যজনকভাবে প্রতিবারই বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..