গৌরনদীতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে যুবককে নির্যাতন করে জোর করে ভিডিও বানানোর অভিযোগ

গৌরনদীতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে যুবককে নির্যাতন করে জোর করে ভিডিও বানানোর অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার কাসেমাবাদ এলাকার নাঈম হোসেন (২২) নামে এক যুবককে অপহরণ করে শারীরিক নির্যাতন চালানো এবং জোরপূর্বক মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় এক যুবদল কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া এক অভিযোগে ভুক্তভোগী নাঈম হোসেন বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কাসেমাবাদ এলাকা থেকে তাকে কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। তিনি জানান, অভিযানে নেতৃত্ব দেন হীরা সরদার নামে পরিচিত একজন যুবদল কর্মী। প্রথমে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তার হাত-পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এরপর রাতে মাহিলাড়া ইউনিয়নের জঙ্গলপট্টি গ্রামের একটি পুরনো মাদ্রাসা ভবনে আটকে রেখে দ্বিতীয় দফায় নির্যাতন চালানো হয়।

নাঈমের দাবি, নির্যাতনের একপর্যায়ে তার হাতে কোরআন শরীফ দিয়ে গৌরনদী পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহŸায়ক আব্দুর রহিমকে জড়িয়ে মাদকসংক্রান্ত মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। এমনকি তার হাতে গাঁজা তুলে দিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করা হয়। ভিডিওচিত্র তৈরির উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানো। পরে তার পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি কোনোভাবে মুক্তি পান।

নাঈম বলেন, আমি মৌখিকভাবে বিষয়টি থানাকে জানিয়েছি। পুলিশ লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছে। কিন্তু আমার মা বিদেশে থাকায় ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এখনো অভিযোগ জমা দেইনি।

অভিযুক্ত হীরা সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। দলের ভেতরের একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

অন্যদিকে, ভিডিওতে যাকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়, সেই আব্দুর রহিম বলেন, হীরা সরদার দীর্ঘদিন ধরে আমাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসাতে নানা ষড়যন্ত্র করছে। দলের সিনিয়র নেতাদের জানিয়েও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাচ্ছি না।

গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।