× Banner
সর্বশেষ
হিরোশিমা দিবস: ‘ওপেনহাইমার’ সিনেমার নির্মাণের নেপথ্যের বিস্ময়কর গল্প জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের স্মারক সংবর্ধনা আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় আজ ২০ শ্রাবণ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে শেখ হাসিনার দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কড়া প্রতিক্রিয়া বুড়িগঙ্গায় তরল বর্জ্য নির্গমনস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ ভোলায় ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ-ভিডিও ধারণ, তিন কিশোর গ্রেপ্তার টানা ৫ দিন অনশনের পর বিয়ে, তিন মাস পর মিলল মোনিয়ার ঝুলন্ত লাশ শ্যামনগরে ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সমাবেশ ও গণমিছিল জাল দলিলের অভিযোগ-কোটালীপাড়ায় দুই দলিল লেখক সাময়িক বহিস্কার

খুলনার দক্ষিনঞ্চল পাইকগাছা-কয়রায় বাগদা চিংড়িতে মড়ক; লোকসানের মুখে চাষিরা

Kishori
হালনাগাদ: শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৯

ইমদাদুল হক,পাইকগাছা(খুলনা),প্রতিনিধি ।।  খুলনার দক্ষিনঞ্চল পাইকগাছা-কয়রায় বাগদা চিংড়িতে মড়কের কারনে দিশেহারা মৎস্য চাষীরা।

বছর জুড়েই অতিবৃষ্টি এবং অনাবৃষ্টি, পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, ভাইরাসের আক্রমণসহ বিভিন্ন কারণে ভাল উৎপাদন করতে পারেনি চিংড়ি চাষীরা। ফলে এ বছর লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে চিংড়ির আবাদ কিছুটা ভাল হলেও প্রথম দিকের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারেনি। উৎপাদন খরচ উঠে আসা নিয়ে আশংকায় রয়েছেন তারা।

ব্যাপক হারে চিংড়ি মরার কারণ হিসেবে চাষিরা ভাইরাস সংক্রমণের কথা বলছেন। তবে মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রেই মরা চিংড়িতে তারা কোনো রোগবালাই খুঁজে পায়নি। তাদের ধারণা, গরমের সময় ঘেরগুলোতে পর্যাপ্ত পানির অভাব, পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চিংড়ি মরে যাচ্ছে।

মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে আট হাজারের মত চিংড়ি ঘের রয়েছে। এর আয়তন প্রায় ২২ হাজার হেক্টর। গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে চিংড়ির উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু গত বছরও চিংড়ি মরে যাওয়ায় সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। চলতি বছর ঘেরের সংখ্যা কমে যাওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১৫ হাজার মেট্রিক টন। এবারও মৌসুমের শুরুতে ব্যাপক হারে বাগদা চিংড়ি মরে যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা কম রয়েছে।

চিংড়ি চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে ঘের প্রস্তুত করে তারা হ্যাচারির পোণা ছেড়েছিলেন। আবার অনেকেই স্থানীয় নদী থেকে আহরণ করা পোণা ছেড়েছিলেন। তারা জানায়, যে সব ঘেরে হ্যাচারির পোণা ছাড়া হয়েছিল সে সব ঘেরে অধিকাংশেরই চিংড়ি মরে যায়। এভাবে কয়েকদফা পোনা ছাড়লেও সেগুলোর অধিকাংশই মারা গেছে।

কয়রা উপজেলার গড়িয়াবাড়ি গ্রামের চিংড়ি চাষী আবু সাইদ সরদার জানান, পৌষ মাসে ঘেরে পোনা ছাড়ার পর আশা করেছিলেন বৈশাখের প্রথমেই চিংড়ি ধরতে পারবেন। কিন্তু সব চিংড়ি মরে যাওয়ায় আশাহত হন। বর্ষা মৌসুমের কিছুটা মাছ পেলেও লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আবু সাঈদ বলেন, মৌসুমের প্রথমে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ঘেরের পানি ও মাটিতে এর প্রভাব পড়ে। ফলে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে চিংড়ি মরতে শুরু করে। এছাড়া ঘের তৈরি করার সময় চাষিরা মাটির সঠিক পরিচর্যা করেন না, নিয়মিত প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ না করাসহ, বিভিন্ন কারণে মাছ মারা যায়। এর উপর বৈরি আবহাওয়ার কারণেও মাছা মারা গেছে।

উৎপাদনের ঘাটতির কারণে রপ্তানীও কম হয়েছে গেল অর্থ বছরে।রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে চিংড়ি ও সাদা মাছ রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২৯ হাজার ৬ দশমিক ৮২১ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ২ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে গলদা, বাগদা ও অন্যান্য চিংড়ি মাছ রপ্তানি হয়েছে ২৪ হাজার ৪১৩ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য ২ হাজার ১৭১ কোটি ১৭ লাখ টাকা।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..