কালীগঞ্জে বিদ্যুৎতের বেহাল দশা পানি সরবরাহ বন্ধ॥ জনজীবনে দুর্বিসহ অবস্থা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥ ২৮ মার্চ’২০১৮:  গরমের শুরুতেই ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিদ্যুৎতের লাগামহীন লোড শেডিং শুরু হয়েছে। সেই সাথে “বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ” প্রকল্পের আওতায় শহরের পোল ও তার পরিবর্তনের নামে সারাদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে রাখা হচ্ছে। সারাদিন বিদ্যুৎ না থাকায় মিল, কলকারখানা, ছোট বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বীমা, অফিস-আদালতের স্বাভাবিক কাজ কর্ম দারুন ভাবে বিঘœ ঘটছে। বাসা-বাড়িসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পানি থাকছে না।

বিদ্যুৎ অভাবে শহরের ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। থানা থেকে শুরু করে বাসা-বাড়ি, হাসপাতাল, ক্লিনিকে কোন স্থানে পানি না থাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। যার মূলে রয়েছে বিদ্যুৎ না থাকা। ওজোপাডিকো (ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিঃ) কালীগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের খামখেয়ালীপনার কারনে বিদ্যুৎতের এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। বিদ্যুৎতের কাজ করার নামে শহরের ৪ টি ফিডারই বন্ধ করে রাখা হয়েছে। যার কারনে গত কয়েকদিন ধরে এলাকাবাসী দারুন সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। অধিকাংশ গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, যে এলাকায় বিদ্যুৎতের কাজ চলছে সেই এলাকার ফিডারটি বন্ধ রেখে অন্য এলাকার ফিডারগুলি চালু রাখলে সেখানকার গ্রাহকগুলি বিদ্যুৎ সুবিধা পেত। অথচ এক এলাকায় কাজ করে সমগ্র শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এটা বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের খামখেয়ালীপনা ছাড়া আর কিছু না।

ওজোপাডিকো (ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিঃ) কালীগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিস সূত্রে জানাগেছে, উপজেলায় মোট ১৫ হাজার ৩০ জন বিদ্যুৎ গ্রাহন রয়েছেন। ১নং ফিডার (বলিদাপাড়া-পাইকপাড়া) ২নং ফিডার (কাশিপুর-শিবনগর) ৩ নং ফিডার (বাবরা-বারবাজার) ৪নং ফিডার সুগারমিলসহ মোট ৪ টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কালীগঞ্জে পিক আওয়ারে সাড়ে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎতের প্রয়োজন। সেখানে তারা গত সোমবার (২৭ মার্চ) ৮ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পেয়েছেন। এছাড়া বুধবার (২৮ মার্চ) বাবরাসহ শহরের কয়েকটি স্থানে পোল ও তার পরিবর্তন করার কাজ চললেও পুরো শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে রাখা হয়।

কালীগঞ্জের আড়পাড়া নদীপাড়ার বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় সকালে পানি তুলা সম্ভব হয়নি। ফলে গোসল করতে পারেননি। তিনি আরো জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকরা ঠিকমত মাঠে পানি দিতে পারছে না। এতে ফসল উৎপাদনে ক্ষতি হবে। এছাড়া আগামী ২ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। ঘন, ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়া দারুনভাবে বিঘœ ঘটছে।

ব্যবসায়ী মাজহারুল ইসলাম জানান, সকালে দোকান খুলে দেখি বিদ্যুৎ নেই। যার কারনে তিনি ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার কিছুই বিক্রি করতে পারেননি। ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করে দিতে না পারায় অনেক ক্রেতা তা ক্রয় করতে না পেরে ফিরে গেছেন।

ব্যবসায়ী রোকন উদ্দীন বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে কালীগঞ্জে ঠিকমত বিদ্যুৎ থাকছে না। গত কয়েকদিন তো এক ফিডারে কাজ করলেও অন্য ফিডার বিদ্যুৎ চালু ছিল। বুধবার (২৮ মার্চ) সব বিদ্যুৎতের ফিডারগুলি বন্ধ রেখে পুরো শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানার এক এএসআই বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় থানার ট্যাংকিতে পানি ছিল না। যার কারনে তিনি গোসলসহ শৌচাগারেও যেতে পারেননি।

এ ব্যাপারে ওজোপাডিকো (ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিঃ) কালীগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী রেজা নাছিম ও সহকারি প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে আবাসিক প্রকৌশলী রেজা নাছিম এর মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি তার কোন উত্তর দেননি। তবে বিদ্যুৎ অফিসের ক্লার্ক কাম কম্পিউটার অপারেটর সাদ্দাম হোসেন বলেন, “বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ” প্রকল্পের কাজ চলছে। ওই প্রকল্পের আওতায় বাবরা ও শহরের কয়েকটি স্থানে পোল ও তার পরিবর্তন করা হচ্ছে। যার কারনে বিদ্যুৎ নেই। এ ব্যাপারে পূর্বে মাইকিং করে গ্রাহকদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। যে এলাকায় কাজ চলছে সে এলাকার ফিডার বন্ধ না করে অন্য সবগুলি ফিডার বন্ধ রাখা হয়েছে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা আমি বলতে পারবো না, আরই সাহেব কে জিজ্ঞাসা করেন”।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।