কাজী জাফর আহমদ ছিলেন ক্ষণজন্মা পুরুষ। তিনি শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আমৃত্যু লড়াই করেছেন। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমরা তার সুযোগ্য নেতৃত্ব পেয়েছি তার কাছ থেকে যে শিক্ষা পেয়েছি তা সারা জীবন চলার পথের পাথেয় হয়ে থাকবে।
আজ ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় টাঙ্গাইল জেলা কমিটি টাঙ্গাইলস্থ প্যারাডাইস পাড়া হলে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভাসানী অনুসারী পরিষদের আলোচনা সভা, খতমে কোরান, দোয়া, মিলাদ ও দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণে ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম মেম্বার, এডভোকেট সুলতান আলম মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় কাজি জাফর আহমদ সম্পর্কে উক্তরূপ মন্তব্য করা হয়।
সভায় তার ঘটনা বহুল জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার, আহসান হাবিব লিংকন, গণ দলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার, মাওলানা রুহুল আমিন, ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম মেম্বার মোঃ আখতার হোসেন, জাতীয় পার্রি যুগ্ম মহাসচিব এ এস এম শামীম, প্রগশ এর সভাপতি মেহেদী হাসান তালুকদার তপন। সভায় মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ ক্বারী মোঃ রফিকুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, আমরা আজ এক চরমক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। বর্তমান সরকারের স্বৈরাচারী কার্যকলাপ দেশ এবং দেশের মানুষকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শাসকগোষ্ঠি দেশে পুনরায় বাকশালী শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার চক্রান্তে লিপ্ত। এমনি অবস্থায় দেশকে বাঁচানোর জন্য জাতীয় ঐক্যের বড় প্রয়োজন। এই জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য যিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারতেন তিনি হলেন কাজি জাফর আহমদ। দেশের ক্রান্তিকালে আমরা তার অভাব খুব বেশী অনুভব করছি।
বক্তারা আরও বলেন, তিনি ছিলেন এক অনন্য সাধারণ রাজনৈতিক। আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে কাজী জাফর আহমেদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। কাজী জাফর আহমদ ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পল্টন ময়দানে স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এই অপরাধে তৎকালীন সামরিক সরকার তাকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছিলেন। তারা আরও বলেন কাজী জাফর আহমদ ছিলেন একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান তার হাত ধরেই আমাদের অনেকের রাজনীতিতে উত্থান হয়েছে।
সভাপতির বক্তৃতায় এডভোকেট সুলতান আলম মল্লিক বলেন, কাজী জাফর আহমদ ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর একনিষ্ঠ অনুসারী। তার অনুপ্রেরণাতেই ভাসানী অনুসারী পরিষদের জন্ম। তিনি কাজী জাফর আহমদের রাজনৈতিক জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিকেল ৩টায় আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।




