কলম হাতে বসে আছি, কাগজখানা সাদা,লিখতে গেলে মন বসেনা।
শব্দেরা সব গেছে বুঝি কোন সুদূরের দেশ,এখন মাথায় চড়ে নাচে যত সব ভূত-পেত।
ছন্দ-মিল কোথায় গেল, কোথায় আমার সুর?বইয়ের ভাঁজে ধুলা জমে, মনটা অনেক দূর।
লেখকের বন্ধ্যাত্ব! এ বড়ই কঠিন ব্যাধি,আশা রাখি, শীঘ্রই কাটবে লেখার এই অবধি।
আকাশ দেখি, মেঘ দেখি, দেখি নদীর ধার,কবিতা আসেনা ধ্যানে-জ্ঞানে ভুল হয় বারবার।
মগজে নেই কবিতার বসবাস, ভাবনারা সব চুপ,লেখক হয়েও এখন আমি নির্বাক এক দর্শক।
একটি সময় ছিল, যখন বাড়ির সামনে চিঠির বাক্সটির দিকে তাকিয়ে থাকতাম আর কয়েকদিন পরপর খুলে দেখতাম, হলুদ খামের আশায়। গ্রাম থেকে দাদার চিঠি, ছোট চাচা, মামাতো ভাই-বোন, কিংবা প্রিয় বন্ধু-বান্ধবীর হাতে লেখা সেই চিঠিটা—যার গায়ে একটি বিশেষ ডাকটিকিট লাগানো। চিঠি আসলে যেন একটি উৎসব লাগতো। ডাকপিয়ন কাঁধে কাপড়ের থলে ঝুলিয়ে ‘চিঠি চিঠি’ বলে ডাক দিলে বাড়িতে একটি আলোড়ন পড়ে যেতো। সেদিনের সেই উত্তেজনা, সেই আনন্দ আজ কোথায়?

