করোনা মহামারিতেও ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে হাজারো মানুষের পূণ্য স্নানোৎসব

করোনা মহামারিতেও ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে হাজারো মানুষের পূণ্য স্নানোৎসব

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে হাজারো মানুষের পূণ্য স্নানোৎসব শুরু হয়েছে। এ স্নানোৎসব চলবে সন্ধ্যা অবধি। পূজা অর্চনার মধ্যদিয়ে এ স্নানোৎসব শুরু হয়।

শুক্রবার (০৯ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টা থেকে এ স্নানোৎসব শুরু হয়।

তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এ স্নানোৎসব শুরু করা হয়নি। পূজা অর্চনার পর আগত ভক্তরা যে যার মতো করে স্নানোৎসবে যোগ দেন।

করোনা মহামারির কারণে ওড়াকান্দির ঠাকুরবাড়িতে স্নানোৎসব ও মহাবারুণী মেলা স্থানীয় প্রশাসন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। গত বছরও করোনার কারণে এ স্নানোৎসব হয়নি।

কিন্তু এ বছর নিষেধাজ্ঞার সত্ত্বেও ঠাকুর বাড়িতে হাজারো মতুয়া ভক্ত হাজির হন। যোগ দেন পূজা অর্চনা ও স্নানোৎসবে। তবে তিন দিনব্যাপী মহাবারুণী মেলা এবার হচ্ছে না।

স্থানীয় প্রশাসন ও ঠাকুরবাড়ির পক্ষ থেকে স্নান উৎসব বন্ধের নানা ধরনের চেষ্টার পরও হাজার হাজার মতুয়াভক্ত শুক্রবার সূর্য ওঠার আগেই হাজির হয় ঠাকুরবাড়িতে। প্রতি বছরই এ দিনে ১০-১৫ লাখ মতুয়া ভক্তের সমাগম ঘটে থাকে এই ঠাকুরবাড়িতে। কিন্তু এ বছর করোনা মহামারির কারণে ঠাকুরবাড়ির পক্ষ থেকে এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে স্নানোৎসব ও তিন দিনব্যাপী মেলা বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তারপরও হাজার হাজার মতুয়াভক্ত এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে কাশিয়ানীর ওড়াকান্দিতে পূজা অর্চনা ও স্নানোৎসবে যোগ দেন।

শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ১২১৮ বঙ্গাব্দে ইংরেজি ১৮১১ খ্রিস্টাব্দের ১১ মার্চ কাশিয়ানী উপজেলা সাফলীডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। হরিচাঁদ ঠাকুরের বাল্য নাম ছিল হরিঠাকুর। কিন্তু ভক্তরা তাকে হরিচাঁদ নামেই ডাকতেন। পিতা যশোবন্ত ঠাকুরের পাঁচ ছেলের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। পরে পার্শ্ববর্তী ওড়াকান্দি গ্রামে বসতি গড়েন হরিচাঁদ ঠাকুর। সেখানে হরিচাঁদ ঠাকুরের অলৌকিকত্ব ও লীলার জন্য প্রসিদ্ধ হয়ে ওঠেন।

শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১০ তম জন্মতিথি উপলক্ষে শুক্রবার ওড়াকান্দি গ্রামের ঠাকুরবাড়িতে বারুণী স্নানোৎসব ও তিন দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন দ্বিতীয়বারের মতো এটি বন্ধ করে দেয়। গত বছরও এ সময়ে করোনার প্রথম ধাপের সংক্রমণ ঠেকাতে এই উৎসব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

ঠাকুরবাড়ির সদস্য ও মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি শচীপতি ঠাকুর বলেন, করোনা ভাইরাস ঠেকাতে এ বছর বারুণী স্নানোৎসব ও মেলা অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মতুয়াভক্তদের আবেগকে তারা বন্ধ করতে পারেননি। বাধা উপেক্ষা করেও হাজার হাজার মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে হাজির হয়ে স্নানোৎসবে যোগ দেন।

ঠাকুরবাড়ির অপর সদস্য ও কাশিয়ানী উপজেলা চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর বলেন, আগত ভক্তদের ঠাকুরবাড়ির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা অর্চনা ও স্নানোৎসব করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।