করোনায় আক্রান্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক  সংবাদমাধ্যম সিএনএন তার আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে।

এক ভিডিও বার্তায় বরিস জনসন বলেন, ‘আমার করোনা ভাইরাস পজিটিভ এসেছে। গত ২৪ ঘন্টায় আমার হালকা লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। আমি এখন স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে আছি। আগামী দিনগুলোতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অংশ নেব। আমরা একসঙ্গে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করবো এবং এটাকে পরাজিত করবো।’

এদিকে যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এখন পর্যন্ত১১ হাজার মানুষ, মৃত্যু হয়েছে ৫৮০ জনের।

অন্যদিকে গোটাবিশ্বে দুইশতাধিক দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ৩১ হাজার ৮৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এবং মারা গেছেন ২৪ হাজার ৭৩ জন।

যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্বের সব দেশকে ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মারা গেছে প্রায় ১৩০০ মানুষ।

দেশটিতে তিন সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করা হলেও বাংলাদেশি অধ্যুষিত হোয়াইট চ্যাপেলে নিয়ম মানছেন না অনেকে। লকডাউনে পুরো ব্রিটেন যেখানে স্থবির হয়ে আছে। কিন্তু সেখানে ব্রিটেনের বাংলাদেশি পাড়াখ্যাত এই হোয়াইট চ্যাপেলের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে লোকজন বাসা থেকে বের হচ্ছেন হরহামেশাই।একজন বলেন, আমাদের বাঙালি পাড়ায় লোকজন বেশি করে হাঁটাহাঁটি করছে। অন্য সব জায়গায় এতোটা না।

লন্ডন বাংলাদেশ হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম বলেন, এক সাথে যোগাযোগ করবেন না। এমন কি একসঙ্গে নামাজ, জমায়েত যেন না করা হয় সেজন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষক আদনান পাভেল বলেন, আমরা যদি এ নির্দেশনা না মেনে চলি, তাহলে ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির যারা বসবাস করছেন তারা বাজেভাবে আক্রান্ত হবেন।

যুক্তরাজ্যে কোভিড-নাইনটিনে আক্রান্ত ছয় জন বাংলাদেশি মারা গেছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পরিসংখ্যান বিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৯৯টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটি। ইতোমধ্যে করোনা কেড়ে নিয়েছে ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ। আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ লাখেরও বেশি।

এদিকে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৯টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, সারাবিশ্বে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৪ হাজার ৮৩ জনের। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩২ হাজার ১৫০ জনে। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৩২৬ জন।

এ মুহূর্তে সারাবিশ্বে আক্রান্ত অবস্থায় আছেন ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪১ জন, যাদের মধ্যে ১৯ হাজার ৩৫৭ জনের অবস্থা গুরুতর। বাকি ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৩৮৪ জনের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এখন পর্যন্ত করোনায় ১৬ শতাংশ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে, সুস্থ হয়েছেন ৮৪ শতাংশ মানুষ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।