বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কসোভোর শ্রমবাজার সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশ এ নিয়ে স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও পারস্পরিক লাভজনক শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকার-টু-সরকার (জিটুটি) সহযোগিতা কাঠামো তৈরির সম্ভাবনা অনুসন্ধানে সম্মত হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার কসোভোর রাজধানী প্রশান্তিনায় বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে দ্বিতীয় দফার পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সভায় দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন, শ্রম অভিবাসন ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এবং কসোভোর পররাষ্ট্র ও প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব ইলির মুচাজের নেতৃত্বে কসোভো প্রতিনিধি দল সভায় অংশ নেয়।
দুই পক্ষ বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
পারস্পরিক সম্মান, অভিন্ন মূল্যবোধ, স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক আইনের নীতির ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে উভয় দেশ।
সভায় দুই দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করে। পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, পর্যটন, শ্রম চলাচল এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
দুই পক্ষ এ পর্যন্ত সম্পাদিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলোকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এসব উদ্যোগ প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, দ্বৈত কর পরিহার এবং অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে চলমান আলোচনা দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলোতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সমন্বয় ও পরামর্শ অব্যাহত রাখার বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে।
শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশ ও কসোভো সন্ত্রাসবাদ, সহিংস উগ্রবাদ এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধের সব ধরনের বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
কসোভো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করে দেশটিতে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ কসোভোর আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংগঠন এবং উদ্যোগে ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থা, কনভেনশন ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় কসোভোর সমঅংশগ্রহণের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে কসোভো বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সম্পৃক্ততার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে কসোভো।




