কঠোরতা প্রয়োজন, তবে বিভাজন নয়: গাজিয়াবাদ থেকে যে বার্তা

কঠোরতা প্রয়োজন, তবে বিভাজন নয়: গাজিয়াবাদ থেকে যে বার্তা

ভারত-এর গাজিয়াবাদে জঙ্গি সন্দেহে কয়েকজনকে আটকের ঘটনা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে—রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এখনো বড় একটি চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন জৈশ-ই-মোহাম্মদ-এর মতো গোষ্ঠীগুলোর ছায়া ভারতীয় ভূখণ্ডে বিস্তারের চেষ্টা নতুন নয়, এবং তা প্রতিহত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ প্রমাণ করে, গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জোর দেওয়া হচ্ছে। এটি ইতিবাচক। কারণ, যেকোনো স্লিপার সেল সময়মতো শনাক্ত না হলে বড় ধরনের সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

কিন্তু এখানেই আসে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এই লড়াই কাদের বিরুদ্ধে?

জঙ্গিবাদ একটি নিরাপত্তা হুমকি, কোনো ধর্মীয় পরিচয় নয়। বাস্তবতা হলো, উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো প্রায়ই ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক ও সহিংস লক্ষ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে। তাই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি সমানভাবে জরুরি সাধারণ নাগরিকদের—যে ধর্মেরই হোক—এই লড়াইয়ের বাইরে রাখা।

উত্তর প্রদেশ-এর মতো জনবহুল রাজ্যে উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা—এই তিনটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। উন্নয়ন যত বাড়ে, ততই তা ব্যাহত করার জন্য উগ্রপন্থী শক্তি সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক আস্থা তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

একটি বিষয় স্পষ্ট—রাষ্ট্র যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে পুরো একটি সম্প্রদায়কে সন্দেহের চোখে দেখে, তাহলে তা উল্টো ফল দিতে পারে। এতে বিচ্ছিন্নতা বাড়ে, যা উগ্রপন্থার জন্য উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করে। অন্যদিকে, আইনের শাসন যদি নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ হয়, তাহলে তা সবার আস্থা অর্জন করে এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও শক্তিশালী করে।

সবশেষে, গাজিয়াবাদের ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—কঠোরতা প্রয়োজন, তবে তা হতে হবে লক্ষ্যভিত্তিক; নিরাপত্তা দরকার, তবে তা যেন বিভাজনের কারণ না হয়। রাষ্ট্রের শক্তি শুধু তার অস্ত্রে নয়, বরং তার ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিতে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।