এ মাসেই স্বৈরাচার সরকারের পতন হবে -দুদু

এ মাসেই স্বৈরাচার সরকারের পতন হবে  -দুদু
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রনেতা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আর অপেক্ষা করতে হবে না, এ মাসেই চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবে। জনগণ চুড়ান্ত বিজয়ের  দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। কোন অবস্থায় এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার আর কোন অধিকার নেই। স্বৈরাচার পতন আন্দোলনের জন্য ৯০’র স্বৈরাচার পতন আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। শুধু দুঃখ এটুকুই বর্তমান স্বৈরাচার পতন মনি দেখে যেতে পারলো না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব আরেকটি শাপলা চত্বরের চেয়েও করুণ পরিণতির হুশিয়ার দিয়েছে। আমি তাকে বলতে চাই, আপনারা কি সেই লক্ষ্যেই আগাচ্ছেন। মনে রাখবেন এটি ২০২৩ সাল। আপনাদের লম্ফ জম্ফ আর কাজে আসবে না। অনেক খেলা দেখিয়েছেন, এবার নিজেদের মরণ খেলার জন্য প্রস্তুতি নেন। তিনি আরো বলেন, সাইফুদ্দিন মনির ছড়া ও কবিতা আন্দোলনে নতুন প্রেরণা যোগাতো। তিনি আমৃত্যু পর্যন্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। ক্ষমতার জন্য কখনও রাজনীতি করেননি। মনিদের মতো ত্যাগী নেতা-কর্মী আছে বিধায় আমরা স্বপ্ন দেখি। তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়াকে হত্যা করার সকল চেষ্টা করছেন, কিন্তু আল্লাহ যদি সহায় হন জনগণের দোয়ায় তিনি আবারও সুস্থ হয়ে উঠবেন। সামনে থেকে আমাদের নেতৃত্ব দেবেন। আমরা বিশ্বাস করি সব অন্যায়ের একটি শেষ আছে। আপনারা যে অন্যায় ও লুটপাট করেছেন তার প্রাশ্চিত্ব আপনাদেরকেই গুনতে হবে।

মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) সকালে তোপখানা রোডস্থ বাাংলাদেশ শিশু কল্যাণ হলরুমে (২য় তলা) বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরামের উদ্যোগে ৯০’র ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার, মরহুম এডভোকেট সাইফুদ্দিন আহমেদ মনিকে স্মরণ এবং ৯০ থেকে বর্তমান প্রেক্ষাপট শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান এর সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান শামীম এর সঞ্চালনায় স্মরণসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ডাকসুর সাবেক এজিএস ও সাবেক সংসদ সদস্য নাজিমুদ্দিন আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক  মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, মুসলিম লীগ- বিএমএল এর সভাপতি এডভোকেট জুলফিকার চৌধুরী বুলবুল, এনডিপি’র মহাচিব মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, ডিএলএর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খোকন দাস, এলডিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট আরঙ্গজেব বেলাল, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক, অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, সাবেক ছাত্রনেতা  শাজাহান মিয়া সম্রাট, মুন্সিগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সভাপতি সেলিনা আক্তার বিনাসহ  ৯০’র ছাত্র গণভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সর্বদলীয় ছাত্র-ঐক্যের শীর্ষ নেতা এবং গণতান্ত্রিক ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি এডভোকেট সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ‘৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের বীর সেনানী হিসেবে সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি গণতন্ত্র পুণঃরুদ্ধারের আন্দোলন-সংগ্রামে যে সাহসী ও বীরোচিত ভূমিকা পালন করেছেন তা দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে। বর্তমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধেও তিনি ছিলেন নির্ভিক কন্ঠস্বর। তিনি ছিলেন একজন নীতিবান ও সজ্জন মানুষ। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শুণ্যতার সৃষ্টি হলো তা সহজে পূরণ হবার নয়। ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনকরা সাইফুদ্দিন মনি বেশ কয়েকবার কারাবরণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে ছিলেন।

তিনি দীর্ঘদিন থেকে তিনি ময়মনসিংহ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এক সময় তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। অতপর চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার বারডেম হাসপাতালে (মিরপুর) ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১৩ অক্টোবর শুক্রবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে তার লাশ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নেওয়া হয়। শুক্রবার বাদ মাগরিব ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের নিজগ্রাম মহেশপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সেখানে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাকে শেষ বারের মতো দেখতে আসেন।

এনডিপি’র মহাসচিব মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, বাংলাদেশে অনেক জাতীয় এবং শীর্ষ নেতা রয়েছে। কিন্তু সাইফুদ্দিন মনি’র মতো কর্মীবান্ধব কোন নেতা বাংলাদেশে আর জন্মগ্রহণ করবে না। তিনি ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে পাশ করে এডভোকেট হয়েছিলেন। তার পরেও পেশায় না গিয়ে তৃণমূল রাজনীতি করেছেন। চির বিদ্রোহী অলি আহাদের নেতৃত্বে ডিএল’র রাজনীতি করতেন। জীবনে অনেক সুযোগ এসেছিল, কোনদিনই ডিএল ছেড়ে অন্যদলে যায়নি। তিনি সারাদিন বন্ধুদের কাছে হেটে হেটে টাকা সংগ্রহ করতেন। বিকেল বেলা সেই টাকার সবটুকুই তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে খরচ করে পায়ে হেটে অনেকদিন বাসায় যেতেন। তার অগ্নিঝড়া ছড়া ও কবিতা রাজনীতিতে একটি বিশেষ অবস্থান সৃষ্টি করেছিল। সব দল ও মতের সাথে তার একটি নিবির সম্পর্ক ছিল। বর্তমান সংকটময় মুহুর্তে তার মতো একজন জাতীয় বীরের বেশি প্রয়োজন ছিল। তিনি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দাবি করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Dutta
লেখক / প্রতিবেদক

Dutta

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।