ইজরায়েল-লেবানন সংঘাতে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি, শান্তি আলোচনার নতুন আশা

ইজরায়েল-লেবানন সংঘাতে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি, শান্তি আলোচনার নতুন আশা

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের আবহে অবশেষে শান্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ইজরায়েল ও লেবানন সীমান্তে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন, যা দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং এটি বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়ার সূচনা। যদিও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা দীর্ঘদিনের নেপথ্য আলোচনারই ফল।

জানা গেছে, প্রায় ৩৪ বছর পর প্রথমবারের মতো দুই দেশের শীর্ষ নেতারা সরাসরি বৈঠকে বসতে পারেন। ১৯৮৩ সালের লেবানন যুদ্ধ-এর পর এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আর হয়নি। ১৯৪৮ সালে ইজরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক বিদ্যমান, যা আজও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পথে বাধা হয়ে রয়েছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে লেবাননের সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাকে তিনি স্থায়ী শান্তির পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে পরিস্থিতি এখনও জটিল রয়ে গেছে। লেবাননের প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবোল্লাহ এই উদ্যোগে আগ্রহ দেখায়নি। সম্প্রতি উত্তর ইজরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় তাদের হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ফলে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা কার্যকর হলেও মাঠপর্যায়ে এর বাস্তব প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিকতা ও কার্যকর পদক্ষেপই হবে মূল নির্ধারক।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।