অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত ও আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার -অর্থমন্ত্রী

অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত ও আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার -অর্থমন্ত্রী

দীর্ঘস্থায়ী সৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা ও পরবর্তী ১৮ মাসের প্রতিকূলতা কাটিয়ে একটি ভবিষ্যৎমুখী এবং জনকল্যাণমুখী অর্থনীতি পুনর্গঠনের রূপরেখা ঘোষণা করেছে বিএনপি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশীয় অর্থনীতির বর্তমান সংকটময় প্রেক্ষাপটে জাতীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ও আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ অর্থ বিভাগের মাল্টিপারপাস হলরুমে ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সাথে প্রাক-বাজেট আলোচনায় মন্ত্রী এসব কথা বললে।

মন্ত্রী বিগত বিএনপি সরকারগুলোর আমলের অর্থনৈতিক সাফল্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আগামীতেও সামষ্টিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হবে। ক্যাপিটাল মার্কেট ও আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে। ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়া কমিয়ে আর্থিক খাতে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং জনকল্যাণমুখী নীতি বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, সরকার কেবল রাজনৈতিক গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন অপরিহার্য। পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ জনগণের জন্য সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হবে। যারা এতদিন অর্থনীতির মূল স্রোতের বাইরে ছিল, তাদের অন্তর্ভুক্ত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সনাতন শিক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারে দেশজুড়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাতে দেশের তরুণ সমাজ দেশে ও বিদেশে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে করা জটিল নিয়মকানুন বাতিল করা হবে। ব্যবসা শুরুর লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজ করতে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে ‘সিরিয়াস ডিরেগুলেশন’ কার্যক্রম শুরু হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ফিন্যান্সিং ও ইনপুট সাপোর্ট নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরো বলেন, শেয়ার বাজারকে একটি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (Institutional Investors) আকৃষ্ট করতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দক্ষ জনবলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সরকারি বড় প্রকল্প ও এসেটসমূহকে ‘সিকিউরিটাইজেশন’ করার মাধ্যমে অর্থ সংস্থানের নতুন পথ উন্মোচন করা হবে।

এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীসহ সমাজের অবহেলিত মানুষের পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ন্যানোটেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা এবং পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।