বিশেষ প্রতিবেদক অসিত কুমার ঘোষঃ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় প্রতিষ্ঠানটির পলাতক অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখার প্রধান জিন্নাত আখতারের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটি থেকে বরখাস্ত হওয়া এ আসামীরা সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থণা করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন। মামলার ৩ জন আসামীই জামিন পেলেন।
জামিন পাওয়া অপর আসামীরা হলেন, শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনা (৫১)। তিনি গত ৫ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হয়ে ৪ দিন কারাভোগের পর গত ৯ ডিসেম্বর জামিন পান। মামলায় বলা হয়, মামলার ভিকটিম অরিত্রী অধিকারী (১৪) ভিকারুনসিনা নূন স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। আসামী হাসনা হেনা তার শ্রেণি শিক্ষক। অরিত্রী গত ২ ডিসেম্বর পরীক্ষা থাকায় প্রতি দিনের ন্যায় স্কুলে যায়। যাওয়ার সময় বাসায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল নিয়ে যায়। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে শিক্ষিকা আফসানা মোবাইল পেয়ে নিয়ে নেয় এবং পরদিন বাবা-মাকে নিয়ে আসতে বলে।
পরীক্ষা শেষে ভিকটিম বাসায় এসে বিস্তারিত বর্ণনা জানাইলে পরদিন অরিত্রীকে নিয়ে বাবা-মা সকাল ১১টায় স্কুলে যায়। স্কুলে গিয়ে প্রথমে শ্রেণি শিক্ষক আসামী হাসনা হেনার নিকট গেলে সে তাদের অনেক সময় বসিয়ে রাখে পরে আসামী সহকারী প্রধান শিক্ষক ও শাখা প্রধান জিন্নাত আখতারের নিকট নিয়ে যায়। সেখানে জিন্নাত আখতার তাদের দেখে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং বাদীর মেয়েকে টিসি দেবেন বলে হুমকি দেন।
তখন তারা অরিত্রীকে নিয়ে অধ্যক্ষ আসামী নাজনীন ফেরদৌসের রুমে গিয়ে দেখা করেন। ওই সময় ভিকটিম অরিত্রী তার পা ধরে ক্ষমা প্রার্থণা করেন। বাদী ও তার স্ত্রী মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারাও ক্ষমা চান। কিন্তু আসামী কোন কর্ণপাত করেননি। একটু পরে লক্ষ্য করেন মেয়ে অরিত্রী রুমে নেই। বাদী ও তার স্ত্রী বাইরে খোঁজা খুঁজি করে না পেয়ে বাসায় এসে রুমে দেখতে পান। এরপর বাদী কাজে চলে যান। কিছু সময় পর বাদীর স্ত্রী মোবাইলে জানায়, অরিত্রীর রুম বন্ধ, খুলছে না এবং সাড়া-শব্দও পাওয়া যাচ্ছে না। পরবর্তীতে বাসার কেয়াটেকার শুখদেব বাথরুমের ভেন্টিলিটার দিয়ে রুমে প্রবেশ করে অরিত্রীকে ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে দেখতে পেয়ে রুম খুলে দেয়।
বাদীর স্ত্রীসহ আশপাশের লোকজন ধরাধরি করে নিচে নামিয়ে বেলা ৩টার দিকে কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা অরিত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। উপরোক্ত ঘটনায় বাদীর স্পষ্ট ধারণা যে, স্কুলের উল্লেখিত শিক্ষকদের নির্মম আচরণে মর্মাহত হয়ে অরিত্রী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়।




