বিশেষ প্রতিবেদক অসিত কুমার ঘোষ (বাবু)ঃ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া জামিননামায় অপহরণ মামলার এক আসামির কারামুক্তির ঘটনায় ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোঃ জাহাঙ্গীর কবির নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থণা করেছেন।
সোমবার ঢাকার ৪ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তিনি স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে এই ক্ষমা প্রার্থণা করেন। ওই ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে পরে আদেশ দিবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে এদিন ওই মামলার পালিয়ে যাওয়া আসামী মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর মামলার অপর ১১ আসামীর বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেছিল আদালত। অপর ১১ আসামি হলেন, রেজাউল করিম, নজরুল ইসলাম, মশিউর রহমান মন্টু, আলীম হোসেন চন্দন, সজীব আহমেদ ওরফে কামাল উদ্দিন, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ইকবাল হোসেন শুভ, জাহির উদ্দিন মোহাম্মাদ বসার, শেখ মোঃ অলিউল্লাহ, রেজা মৃধা ও কাওছার মৃধা।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর মামলাটি চার্জ গঠনের জন্য দিন ধার্য ছিল। কারাগারে আটক আট আসামীর সাতজনকে ওইদিন কারাকর্তৃপক্ষ আদালতে হাজির করেন। কিন্তু মামলার প্রধান আসামি মিজান মাতুব্বরকে আদালতে হাজির না করলে ঢাকা কেদ্রীয় কারাগারের জেলারকে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারন দর্শাতে বলেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে জেলার কর্তৃক লিখিত ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন যে, গত ৩০ আগস্ট ওই আসামি জামিন সংক্রান্ত ছাড়পত্র পান। এরপর তারা ৩১ আগস্ট ওই আসামীকে মুক্তি দেন। তারা ব্যাখ্যার সঙ্গে ছাড়পত্রের কপিও ট্রাব্যুনালে দাখিল করেন। এ সম্পর্কে ওই ট্রাইব্যুনালে স্পেশাল পিপি ফোরকান মিয়া বলেন, তাদের ট্রাইব্যুনাল থেকে কোন ছাড়পত্র কারাগারে যায়নি। কারাকর্তৃপক্ষ কোন জামিনের ছাড়পত্র পেলে তাদের যাচাই করা উচিত ছিল যা তারা করেননি। তাই এখন আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।
২০১৫ সালের ২ মে মাসে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন স্টাফ রোড এলাকায় ফ্লাইওভারের নীচ হতে শিশু আবীর (৮) কে তাদের প্রাইভেটকার থেকে অপহরণকারীরা ছিনিয়ে নিয়ে মাইক্রোবাসে অপহরণ করে। এরপর অপহরণকারী ১০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। পরবর্তীতে একাধিক ব্যাংকের হিসাবের মাধ্যমে ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা এবং নগদ ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপন দিলে অপহরণকারীরা শিশু আবীরকে ছেড়ে দেয়। পরে ওই ঘটনায় আবীরের মামা
এনায়েত উল্লাহ বাদি হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করলে র্যাব ৫ আসামীকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আসামী মিজান, রেজাউল ও নজরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের পরিদর্শক কবির হোসেন আসামীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।



