সম্ভব নয় নারীদের বঞ্চিত রেখে উন্নয়ন

স্টাফ রিপোর্টার: সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা  বলেছেন, দেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী। তাদের বঞ্চিত রেখে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, জাতীয় উন্নয়ন বিশেষ করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা জরুরি।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি নারীর প্রতি সহিংসা বিশেষ করে যৌন হয়রানি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বলেন, কার্যকর আইনসভা ছাড়া কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি যৌন হয়রানি বন্ধ সম্ভব নয়। পাশাপাশি দেশে সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ ধারায় ধর্ষিতার সপক্ষে সাক্ষ্যের বিষয়ে বিদ্যমান বিধানে থাকা ত্রুটি দূর করতে মহিলা আইনজীবীদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, নারীর প্রতি সহিসংসা শুধুই বাংলাদেশেরই সমস্যা নয়, এটা আন্তর্জাতিক সমস্যা। তবে আশার কথা হলো, নারীর উন্নয়ন, সহিংসা রোধ এবং ক্ষমতায়নে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। সিডও সনদ অনুসরণ করে বাংলাদেশ সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইন, এসিড সন্ত্রাস প্রতিরোধ আইনসহ নারী নির্যাতন প্রতিরোধের বিষয়ে বিদ্যমান আইন সংশোধন করছে। দেশের বড় বড় সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি জানান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধিনে একটি বিভাগ রয়েছে, নির্যাতিত ও অধিকারবঞ্চিত নারীদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য। এ বিভাগ অগ্রাধিকারভিত্তিতে এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে।

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধীদলীয় নেতা নারী, জাতীয় সংসদের স্পিকার নারী। দেশের অন্যতম একটি রাজনৈতিকদলের প্রধান নারী।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে ৯০ ভাগ কর্মী নারী। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে সর্বনিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখা হয়। নিম্ন আদালতে বিচারক নিয়োগে শতকরা ১০ ভাগ কোটা নারীর জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এরপরও মেধার ভিত্তিতে ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ নারী বিচারক নিয়োগ হয়েছে।
নিম্ন আদালতে বিচারকদের মধ্যে ২৫ ভাগই নারী বিচারক, যা যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় অনেক বেশি। দেশের সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্ট বিভাগে ৬ জন নারী বিচারপতি রয়েছেন।

নারীর অধিকার রক্ষায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত অগ্রণী ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, মহিলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। এ আবেদন বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীর যৌন হয়রানি রোধে একটি গাইডলাইন করে দিয়েছে।

মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিগমা হুদা, নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অর্পণা ভাট, নেপালের মানবাধিকতার কমিশনের সদস্য মোহনা আনসারি বক্তব্য রাখেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।