× Banner
সর্বশেষ
আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে – প্রধানমন্ত্রী পাইকগাছায় সুন্দরবনের প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে অভিজ্ঞতা বিনিময় বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত  কোটচাঁদপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে স্কুলছাত্রীকে হত্যা, ৪ বছর পর যুবকের মৃত্যুদণ্ড দেশে হামের উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু রাজবাড়ীতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় আরো আন্তরিক হতে হবে – সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মেজর মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইবার সক্ষমতা ও দেশীয় উদ্ভাবনে নতুন গতি আনতে হবে – প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে বিজিবিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ

মেহেরপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কুল চাষ

admin
হালনাগাদ: সোমবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

মেহের আমজাদ, মেহেরপুর:মেহেরপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বাউ কুল ও আপেল কুলের চাষ। স্বল্প সময়, কম খরচ, অন্যন্য আবাদের তুলনায় ঝুকি কম এবং অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষকেরা এ চাষের দিকে ঝুঁকছে।

এ চাষ থেকে স্বাবলম্বি হচ্ছে অনেক চাষি। তবে জেলা থেকে দেশের বিভিন্ন মোকামে কুল নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় চাঁদাবাজদের শিকার হয়ে ব্যবসায় লোকশান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুল ব্যবসায়ীরা।
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য মতে চলতি বছরে মেহেরপুর জেলায় ৫৫ হেক্টর জমিতে বাউ ও আপেল কুলের চাষ হয়েছে। যা থেকে উৎপাদন হবে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন কুল। কয়েক বছর আগে থেকে জেলার কিছু কিছু চাষি নিজ উদ্দ্যোগে প্রথম বাউ কুল ও আপেল কুল চাষ শুরু করে।

অল্প খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে কুলের চাষ। বিঘা প্রতি জমিতে খরচ হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা, উৎপাদিত কুল বাজরে বিক্রি করে আয় হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। উৎপাদিত কুল জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্রগ্রাম, বরিশাল সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরো ব্যাপক হারে এ কুলের চাষ ছড়িয়ে পড়বে বলে জানান কৃষকেরা।
উত্তর শালিকা গ্রামের কুলের ক্ষেতে কর্মরত শ্রমিক হাফিজ জানান, বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এই সময় তেমন কাজ হয় না, আমরা কুলের জমিতে কাজ করে কুলের মৌসুম এলে আমাদের সংসার ভালাই চলে।
উত্তর শালিকা গ্রামের কুল চাষি আনছার আলী জানান, আমার দুই বিঘা কুল আছে, গত বছর হরতাল অবরোধের কারণে জমি থেকে কুল তুলতে পারি নি, জমিতেই কুল পেকে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, রাস্তায় কুলের গাড়ী পুড়ে যাওয়ায় লোকশানও হয়েছিল।

এ বছর হরতাল অবরোধ না থাকায় লাভবান হবো। এর আগে কেজিপ্রতি ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকা দরে বাজারে কুল বিক্রি করেছি, এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সামনে বছর আরো কুল চাষ বেশি করার ইচ্ছে আছে।
উত্তর শালিকা গ্রামের আরেক কুল চাষি সাবদুল হোসেন জানান, এই সময় অন্য কোন লাভজনক সবজি চাষ হয় না, লাভজনক হওয়ায় আমি আট নয় বছর ধরে কুলের চাষ করছি। কৃষি অফিসের সাহায্য পেলে ভালো হতো।

কুল বাজারে পাঠিয়ে আড়োতদারদের হয়রানির শিকার হয়ে অনেকসময় কুলে লোকশান হয়। আমরা এই কুলের চারাটা বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে আসি। কৃষি অফিসের সহযোগিতা ছাড়ায় নিজের উদ্দ্যোগে আমরা এই চাষ করি। বিঘাপ্রতি কুলটা আমরা ১’শ থেকে ১’শ ২০ মণ পর্যন্ত ফলন নিয়ে আসতে পারি।
কুল ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান জানান, জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে কুল সংগ্রহ করি। গাড়ীতে করে কুল নিয়ে যাওয়ার সময় চাঁদাবাজদের শিকার হতে হয়। পরিবহনের খরচ বাদ দিয়েও কুলটা বাজারে বিক্রি করে আমরা কিছুটা লাভবান হয় কিন্তু চাঁদাবাজির কারণে আমাদের লাভের অংশ অনেক কমে যায়।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কুল চাষে তেমন কোন রোগবালাই হয় না। তবে যে রোগবালাইগুলো সাধারণত কুলে আক্রমণ করে সেগুলোর বিষয়ে কুল চাষিদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ সহ পরামর্শ দেওয়া হয় এবং কুল চাষিরা আগ্রহী হওয়ার কারনে দিনের পর দিন এ চাষ জেলায় বৃদ্ধি পাচ্ছে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..