বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেনাপোলের পৌর বিয়ে বাড়িতে এক অনুপ্রেরণাদায়ক দৃশ্যপট রচিত হলো, যেখানে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে কর্মসংস্থানের মাধ্যম—বিনামূল্যে সেলাই মেশিন। ‘আলোকিত নারী উন্নয়ন সংস্থা’র এই মহতী উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হলো। অন্ধকার জয় করে স্বনির্ভরতার পথে হাঁটার এই প্রত্যয় বেনাপোলের নারীদের জীবনে এক নতুন যুগের সূচনা করল।
নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ও সামাজিক কল্যাণ” প্রকল্পের অধীনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নারীদের কেবল মেশিন প্রদানই নয়, বরং তাদের দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, “একজন নারী যখন স্বাবলম্বী হন, তখন তিনি শুধু নিজের পরিবারকেই অভাবমুক্ত করেন না, বরং গোটা সমাজকে সমৃদ্ধির পথে টেনে নিয়ে যান। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নারীরা দেশের অর্থনীতির মূল স্রোতধারায় মিশে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলোকিত নারী উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহান-ই-গুলশান।
বক্তারা সমস্বরে উচ্চারণ করেন, দারিদ্র্য বিমোচনের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হলো কর্মমুখী শিক্ষা। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির এই প্রয়াসকে সামাজিক পরিবর্তনের একটি রোল মডেল হিসেবে অভিহিত করেন তারা। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মহলের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়, যেন তারা এমন জনকল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
সেলাই মেশিন পেয়ে উচ্ছ্বসিত উপকারভোগী নারীরা জানান, এতদিন তারা অন্যের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু আজকের দিনটি তাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। সেলাই মেশিনের ফোঁড়ে ফোঁড়ে তারা এখন নিজেদের স্বপ্ন বুনে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সাহস পাচ্ছেন। তাদের চোখে-মুখে এখন আত্মবিশ্বাস, মনে নতুন করে বেঁচে থাকার আশা।
বেনাপোলের এই উদ্যোগ কেবল নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তিই আনবে না, বরং একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ ক্যটাগরির আরো খবর..