প্রেমের অভিনয় করে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের কাছ থেকে তার সদ্য বিধবা মায়ের জমানো সোনার গয়না হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। গয়না ফিরে পেতে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় বৃদ্ধা মা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রামের চুনি মিজির বাড়ির মৃত জবিউল্লাহর ছেলে মো. রাকিব (২৩) সহজ-সরল ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।
একই এলাকার চুনি মিহির বাড়ির মো. শরীফের মেয়ে সানজিদা আক্তার (১৮) তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ও প্রেমের অভিনয় শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন রাকিবের মা হোসনেয়ারা বেগম।
অভিযোগ অনুযায়ী, সানজিদা প্রথমে রাকিবের কাছে মোবাইল নম্বর দেওয়ার কথা বলে ৫০০ টাকা নেন। পরে রাকিবকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলে তার কাছে সোনার গয়না দাবি করেন। সরল-সহজ রাকিব বিষয়টি বুঝতে না পেরে সদ্য বিধবা মায়ের খুলে রাখা গয়নার পুটলি গোপনে নিয়ে সানজিদার হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই পুটলিতে ছিল প্রায় ১ ভরি ৪ আনা ওজনের একটি সোনার চেইন, ৮ আনা ওজনের এক জোড়া সোনার কানের দুল এবং ৩ রত্তি ওজনের একটি সোনার নাকফুল। গয়না হাতে পাওয়ার পর সানজিদা রাকিবকে ঘরের দিকে চলে যেতে বলেন। এরপর থেকেই তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করছেন না বলে অভিযোগ রাকিবের পরিবারের।
ঘটনাটি ঘটে গত ৮ জুলাই ২০২৬। পরে গয়না ফেরত পেতে রাকিবের মা হোসনেয়ারা বেগম লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অসহায় হোসনেয়ারা বেগমের অভিযোগ, স্বামীকে হারানোর পর সঞ্চয় করে রাখা শেষ সম্বলটুকুও এখন তার হাতে নেই। ছেলের সরলতার সুযোগ নিয়ে কেউ যদি তার গয়না নিয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত করে তা উদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, “রাকিব ও সানজিদার বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সানজিদা এর আগেও হীরা গাজী বেপারী বাড়ীর ভুট্টুর বউর ৮ আনা ওজনের সোনার গয়না, সুজনের বউর (সানজিদার চাচি) ২ হাজার টাকা, ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান তাদের মাটির ব্যাংক চুরি করে নেয় এ মেয়ে৷
অভিযোগটির তদন্ত করছেন সদর মডেল থানার এসআই নূরুল করিম চৌধুরী।
একদিকে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলের সরলতা, অন্যদিকে সদ্য বিধবা মায়ের শেষ সম্বল হারানোর বেদনা। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। তবে গয়না ফিরে পাওয়ার আশায় এখনো প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন হোসনেয়ারা বেগম।



