একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী মিডিয়া ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাংবাদিক, গণমাধ্যম মালিক এবং সরকার—তিন পক্ষ একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কোনো প্রকার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নয়, প্রয়োজন নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিইসি) আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তথ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, সরকার এমন একটি টেকসই মিডিয়া ইকোসিস্টেম তৈরি করতে আগ্রহী যেখানে মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা, রাষ্ট্র ও সাধারণ জনগণের স্বার্থের মধ্যে একটি সুষম ভারসাম্য বজায় থাকবে। এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চায়ন সহজ হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, গণমাধ্যম কোনো সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নয়; এটি রাষ্ট্রের অঘোষিত ‘চতুর্থ স্তম্ভ’। তাই সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও মর্যাদা রক্ষা করা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি গণমাধ্যম শিল্প টিকে থাকার জন্য এর অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী হওয়া জরুরি। মালিকপক্ষ যদি যৌক্তিক মুনাফা অর্জন করতে না পারে, তবে মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির স্থায়িত্ব অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগের প্রসঙ্গ টেনে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিশ্বব্যাপী টেক-জায়ান্টদের অংশগ্রহণে গণমাধ্যমের পরিবেশ এখন আগের চেয়ে অনেক জটিল। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নিয়ন্ত্রণ (Control) করার বদলে নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো (Regulation) প্রণয়নের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন, যাতে সুশাসনের অভাবে গণমাধ্যমকে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে।
অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের এই সুযোগকে গণমাধ্যম খাতের সার্বিক আধুনিকায়নে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।
টিইসির আহ্বায়ক ও বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য সচিব ও সময় টেলিভিশনের সিইও জুবায়ের বাবু। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।