ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার টার্গেট করার অভিযোগে হামিদ মন্ডল(২৩) নামে জইশ-ই-মোহাম্মদের এক ব্যক্তিকে বেঙ্গল পুলিশের এসটিএফ বর্ধমানের একটি বিলাসবহুল আবাসন থেকে গ্রেফতার করেছে। ভিআইপি নিরাপত্তা নিয়ে তদন্ত
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তির কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনসহ কিছু ডিজিটাল তথ্য জব্দ করা হয়েছে। সেগুলোতে এক ভিআইপির চলাচল, কনভয় এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কিত কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্তকারীরা দাবি করছেন। তার মোবাইল থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যবহৃত গাড়ির রুট পার্কিং এবং চালক সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় ও চলাচলের উপর নজরদারির চাঞ্চল্যকর তথ্যও মিলেছে।
এসটিএফ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্য ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার ব্যক্তির যোগাযোগ, গতিবিধি এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামিদ মন্ডল হাওড়ার পিলখানার একটি গেঞ্জির কারখানায় কাজ করতো কিন্তু থাকতো নিউটাউনে। সম্প্রতি ২/৩ মাস হলো সে বর্ধমানের রেনেসা টাউনশিপের একটি আবাসনে থাকতে শুরু করে। শুভেন্দু অধিকারীর উপর টার্গেটের সাথে হামিদ মন্ডলের আবাসনের স্থান বদল এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পালাবদল সময়ের একটা যোগসূত্র লক্ষ করা যাচ্ছে। রেনেসা টাউনশিপটি আবার বর্ধমানের হাইওয়ের উপর অবস্থিত যা টার্গেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হামিদ মন্ডল পাকিস্তান থেকে ট্রেনিং নিয়ে এসেছে। সে পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠী হামিল সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য। এই সংগঠনটি বিগত কয়েক বছর যাবৎ কাশ্মীরে তৎপর। এবার বাংলাতেও সেই জঙ্গি গোষ্ঠীর সংগঠনের খোঁজ মিললো।
পশ্চিমবঙ্গ বাসীর সদা সতর্ক থাকতে হবে। কারণ পঃবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় ভূ-রাজনীতিতে ব্যপক প্রভাব পড়েছে। সীমান্তে কাটাতারের বেড়া এবং চিকেন নেক সংলগ্ন এলাকার একটি স্পর্শকাতর অঞ্চল সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তরের ফলে ভূরাজনীতিতে অনেক হিসেবে পাল্টে গিয়েছে। ফলে পঃবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুধু দেশের ভেতরে নয় আন্তর্জাতিক ভাবেও সফট টার্গেটে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীকে আরও সতর্ক হয়ে চলাচল করতে হবে।