× Banner
সর্বশেষ
বিরোধীদের সমালোচনার মাঝেও মোদীর পাশে NDA শরিকরা, প্রশংসায় পবন কল্যাণ ও নাইডু এমবিউমোর জোড়া গোলে স্ন্যাপড্রাগন কাপ জিতল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ইন্টারের কাছে ট্রফি হারাল সিটি যেসব এলাকায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা, ৩ অঞ্চলের নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত আজ ২ আগস্ট বৈদিক জ্যোতিষে রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় আজ ২ আগস্ট (১৬ শ্রাবণ) রবিবারের দিনপঞ্জি  ও ইতিহাসের এইদিনে মেহেন্দীগঞ্জে উদ্ধার হওয়া ২৮টি বেওয়ারিশ গরু নিলামে বিক্রি সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার – বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব পেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকে দিল বিএনপির স্থায়ী কমিটি জুলাই শহীদ-আহতদের পরিবারকে সুখবর দিলেন ভূমিমন্ত্রী

নেতাশূন্য সিলেট বিএনপি

admin
হালনাগাদ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৫

শাফী চৌধুরীঃ শমসের মবিনের হঠাৎ রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ায় সিলেট বিএনপি এখন নেতা শুণ্য। এম সাইফুর রহমান’র মৃত্যূর পর শক্ত হাতে সিলেট বিএনপির দায়িত্ব সামলে ছিলেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী। তার সময় সিলেট বিএনপি সাংগঠনিকভাবে অতীতের যে কোন সময়ের চাইতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে ছিলো বলে নেতাকর্মীরা মনে করে। তার নিখোঁজের পর দলের সাংগঠনিক অবস্থা অনেকটা নাজুক হয়ে পরে। এ অবস্থায় সিলেট বিএনপির বৃহৎ অংশের অনুরোধে রাজনীতিতে নাম লেখায় তার পত্নী তাহশিনা রুশদী লুনা।

ইলিয়াস অনুসারীদের অনেকটা এক ছাতার নিচে নিয়ে আসেন তিনি। তার নেতৃত্বে উপজেলায়।চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয় বিএনপির প্রার্থীরা। সিলেট বিএনপি পরিবারও পায়ের তলায় মাটি পায়। তবে ইলিয়াস নিখোঁজের পর সিলেট বিএনপির অপর একটি অংশের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় কেন্দ্রিয় ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীকে। বীর মুক্তিযোদ্ধা,বীর বিক্রম খেতাব প্রাপ্ত সাবেক শীর্ষ আমলা শমসের মবিন চৌধুরী জাতীয় পর্যায়েরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিত্ব ছিলেন। তাকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন ছিলো সিলেটবাসীর। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেছে তার পদত্যাগে। নন্দিত থেকে এখন দলে নিন্দিতই হয়ে গেছেন তিনি। দলের চরম বিপদে পদত্যাগ করে দলকে আরো বিপদে ফেলে দিয়েছেন – এমন অভিযোগ সিলেট বিএনপি পরিবারের।

জাতীয় পর্যায়ের হেভিওয়েট নেতা শমসের মবিনের এভাবে চলে যাওয়ায় সিলেট বিএনপিতে শুণ্যস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কাউন্টারপার্ট সিলেট আওয়ামীলীগে অসংখ্য নেতাকর্মী কেন্দ্রে দাপটশালী হলেও সিলেট বিএনপিতে শমসের মবিন-ই শেষ নেতা যিনি খালেদা জিয়ার পররাষ্ট্র বিষয় তদারকি করতেন। পাশাপাশি বিএনপিতে ভাইটাল অবস্থানে ছিলেন। তাই সিলেটজুরে চলছে আলোচনা এখন কে হবে সিলেট বিএনপির শীর্ষ নেতা যার কেন্দ্রে থাকবে শক্তিশালী অবস্থান আর
সিলেটেও নেতাকর্মীরা পাবে তাদের আগামীদিনের ভরসার স্থান । সেই হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় তারা হলেন, নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহশিনা রুশদী লুনা, ইনাম আহমদ চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াৎ হোসেন জীবন, শাম্মী আক্তার ও সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ হকপ্রমুখের নাম।

ইনাম আহমদ চৌধুরী আবারো রাজনীতিতে সক্রিয় করে দলের দায়িত্ব নেয়ার পরামর্শ কেন্দ্র কে দিচ্ছেন অনেকে । তিনি জাতীয় পর্যায়ের ব্যাক্তিত্ব। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে প্রাইভেটাইজেসন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। তবে স্থানীয় রাজনীতি ও সাংগঠনিক দক্ষতা নেই বলে তাকে চাচ্ছে না কেউ। এছাড়া ওয়ান ইলেভেনে ইনাম চৌধুরী পরিবার জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অন্যায় আচরণ করেছেন বলে।নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করে। পাশাপাশি নাম শোনা যাচ্ছে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াৎ হোসেন জীবন’র । ইলিয়াস আলী প্রথম যখন সাংগঠনিকের দায়িত্ব পান একই সময় তাকেও দেয়া হয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদ। তিনি

অরাজনৈতিক প্লাটফর্ম থেকে এসেছেন। রাজনীতির মারপ্যাচে এখনও ইলিয়াস আলীদের মতো পরিপক্ক নয়। এবং কেন্দ্রে তার অবস্থান শক্তিশালী না যতটা সাইফুর, ইলিয়াস ও শমসের’র ছিলো। আর সিলেট বিভাগীয় রাজনীতিতেও তেমন পরিচিত না তিনি। যার কারণে তার সম্ভাবনা দেখছেন না নেতাকর্মীরা। মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ হক এখন রাজনীতিতে প্রায় নিষ্ক্রিয়। এবং সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে নিজের ব্যাবসাপাতি নিয়ে ব্যাস্ত। তবে তার অনুসারী একটি অংশ শমসের মবিনের পদত্যাগের পর তাকে সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচন করা পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব তাকে যেন দেয়া হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখালেখি করছেন। কিন্তু সিলেট রাজনীতির বেশিরভাগ নেতাকর্মী তার ব্যাপারে নেগেটিব। তিনি আবার রাজনীতিতের সক্রিয় হন এমনটা চাচ্ছে না কেউ।

তাহশিনা রুশদীর লুনা কে সিলেটের দায়িত্বে দেখতে চান দলের বিশাল একটি অংশ। তিনি নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর ইমেজ কাজে লাগিয়ে দলকে শক্তিশালী কাঠামোতে নিয়ে আসতে পারবেন বলে নেতাকর্মীরা মনে করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া উচ্চ শিক্ষিতা লুনা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তা ছাড়া ইলিয়াস আলীর দক্ষ রাজনৈতীক কর্মকান্ড খুব কাছ থেকে তিনি দেখেছেন। সে ক্ষেত্রে লুনার উপর ন্যাস্ত হতে পারে সিলেট বিএনপির দায়িত্ব । সিলেট বিএনপি পরিবারের দাবী লুনাই যোগ্য। সে-ই পারবে আগামীতে গ্রুপিং এ বিপর্যস্থ সিলেট বিএনপিকে এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসতে।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী বলেন, সিলেট বিভাগের আগামী দিনের হাল ধরার জন্য তাহশিনা রুশদী লুনাই যোগ্য। তার এই দক্ষতা আছে।সিলেটের বিএনপি পরিবারও চাচ্ছে লুনাকেই দেয়া হউক সিলেট বিএনপির দায়িত্ব।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..