জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হুট করে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটেনি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘নিউটনের আপেলের মতো গণ-অভ্যুত্থান অটোমেটিক পড়েনি।
নাহিদ ইসলামদের মতো তরুণেরাই এই গণ-অভ্যুত্থান সফল করেছে। আমি তরুণ নাহিদের মধ্যে আমার নিজের দুরন্ত তরুণ বয়সের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।’
বুধবার (৫ আগস্ট) সংসদ সচিবালয় আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক মেরামত ও সংস্কারের কথা বিরোধী দলও বলছে। তবে এসব পরিবর্তন ও সংস্কার সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই আসতে হবে।
আসুন, সংবিধানের ভেতরে থেকেই কীভাবে রাষ্ট্রকাঠামোর মেরামত করা যায়, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করি। একই সঙ্গে জুলাইয়ের অর্জিত কৃতিত্ব যাতে কেউ কেড়ে নিয়ে না যায় এবং গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’
একই অনুষ্ঠানে সরকারের সংস্কার ও রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিদ্যমান সংসদ এখনও জনগণের মধ্যে আশার আলো ছড়াতে পারেনি।
পুরোনো শাসন ও রাজনৈতিক বন্দোবস্ত আঁকড়ে ধরেই সমাজকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রকাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন না আনলে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৈরি হওয়া মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঠিক প্রতিফলন ঘটবে না।
জাতীয় অনুষ্ঠানের সর্বজনীনতা রক্ষা ও বিভিন্ন স্থানে অনভিপ্রেত ঘটনার বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই শহীদ আবু সাঈদের ছবি না থাকায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা ও বিদেশি অতিথিদের চলে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ জাতীয় অনুষ্ঠানে বেশ কিছু বিব্রতকর ঘটনা ঘটেছে, এতে আমরা সবাই বিব্রত। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশের বিভিন্ন জেলাতেই আমরা এ ধরনের বিভাজন লক্ষ করেছি, যা কারো জন্যই কাম্য নয়।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো দলমত নির্বিশেষে সর্বজনীন হওয়া প্রয়োজন।
বক্তব্য ও ইতিহাসে যদি সর্বজনীনতা থাকে, তবেই সবাই এর অংশীদারিত্ব অনুভব করতে পারবে। কিন্তু জাতীয় অনুষ্ঠানে দলীয় ইতিহাস বা একক ন্যারেটিভ প্রচার করা হলে বিরোধী দল ও ভিন্নমতের অংশগ্রহণের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে। গণ-অভ্যুত্থান মূলত জনগণের, তাই এর কৃতিত্ব জনগণকেই ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা এমন পরিবেশ চাই, যেন সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় দিবসগুলো উদ্যাপন করতে পারি।’