× Banner
সর্বশেষ
তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দর্শন – তথ্যমন্ত্রী Inner Wheel Club of Dhaka Cosmopolitan 2026–2027 Handover Ceremony & Collar Exchange Program ছাত্র আন্দোলনের চাপের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা ও সততার নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর ঢাকাস্থ বেনাপোল সমিতি’র বার্ষিক সাধারণ সভা ও স্মরণিকা মোড়ক উন্মোচন রাজনৈতিক বিতর্ক ছেড়ে কৃষি উদ্ভাবন ও উৎপাদনে জোর দিন: মির্জা ফখরুল চলতি মৌসুমে পাইকগাছার চারা শত কোটি টাকার চারা বিক্রির সম্ভাবনা ৬ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত গ্লোবাল এআই লিডারশিপ কনফারেন্স ২০২৬, প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের আহ্বান

পাইকগাছা প্রতিনিধি

চলতি মৌসুমে পাইকগাছার চারা শত কোটি টাকার চারা বিক্রির সম্ভাবনা

admin
হালনাগাদ: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়ন এখন দেশের অন্যতম প্রধান সমৃদ্ধ নার্সারি হাব হিসেবে গড়ে উঠেছে। চলতি মৌসুমে স্থানীয় নার্সারিগুলোতে প্রস্তুতকৃত দেশি-বিদেশি ও ফলজ-বনজ গাছের চারা বিক্রি করে শত কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা করছেন সংশ্লিষ্ট নার্সারি মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

‎বর্ষাকাল গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। তাই বর্ষা শুরু হতেই উপজেলার নার্সারিগুলোতে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। সারি সারি ফল, ফুল, বনজ, ঔষধি ও মসলাজাতীয় গাছের চারায় ভরে উঠেছে নার্সারিগুলো। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। ব্যস্ত সময় পার করছেন নার্সারি মালিক, শ্রমিক ও পরিবহনকর্মীরা। এ বছরও বর্ষা মৌসুমে চারার ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হওয়ায় নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে এ শিল্প।

‎পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়ন বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ নার্সারি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গড়ে উঠেছে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০টি বাণিজ্যিক নার্সারি। এছাড়া উপজেলার অন্যান্য এলাকায় রয়েছে আরও প্রায় ২০০টি ছোট-বড় নার্সারি। ১০ শতক থেকে এক বিঘা বা তারও বেশি জমিতে গড়ে ওঠা এসব নার্সারি পুরো এলাকাকে পরিণত করেছে এক সবুজের জনপদে।

‎বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে ও বসতবাড়ির আশপাশে গড়ে ওঠা নার্সারিগুলোতে দেশীয় ও বিদেশি নানা প্রজাতির ফল, ফুল, বনজ, ঔষধি এবং মসলাজাতীয় গাছের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। ফলে ব্যবসার পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও এলাকাটি হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয়।

‎নার্সারি মালিকরা জানান, বর্ষাকালেই সবচেয়ে বেশি চারা বিক্রি হয়। কারণ এ সময় রোপণ করা চারা বৃষ্টির পানির কারণে সহজে বেঁচে থাকে। তাই ব্যক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বর্ষা মৌসুমে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে।

‎গদাইপুর ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হরেক রকমের ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী ফুল-পাতার চারা দিয়ে সাজানো হয়েছে নার্সারিগুলো। স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বহু পরিবারের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে এ খাত। প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক এসব নার্সারিতে কাজ করছেন।

‎গদাইপুর এলাকার সৌমিতা নার্সারির মালিক দীপংকর অধিকারী জানান, শুধু বর্ষা মৌসুমেই গদাইপুর এলাকার নার্সারিগুলোতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়। আর সারা বছর মিলিয়ে এই বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকায় পৌঁছে। তিনি বলেন, অনলাইন ও সরাসরি বিক্রি মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়, যা বর্ষা মৌসুমে কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

‎তিনি আরও জানান, বর্তমানে সিডলেস লেবু, মাল্টা, ক্যারেলা নারিকেল, স্ট্রবেরি, রাম্বুটান, ড্রাগন, থাই পেয়ারা, সফেদা, কদবেল, আশফল, লিচু, সুপারি ও নারিকেলসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ প্রজাতির বিদেশি ফলের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব চারা বগুড়া, লালমনিরহাট, বাগেরহাট, নড়াইল, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতে কিছু চারা রপ্তানিও করা হয় বলে জানান তিনি।

‎শুধু ফলের চারা নয়, চুইঝাল, দারুচিনি, তেজপাতা, গোলমরিচ, এলাচ ও লবঙ্গসহ বিভিন্ন মসলাজাতীয় গাছের চারারও ব্যাপক উৎপাদন ও বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আম, কাঁঠাল, জাম, পেয়ারা, আমড়া, জলপাই, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, মেহগনি, আকাশমনি, নিম, বকুল ও শিমুলসহ বিভিন্ন বনজ ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছের চারারও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

‎নার্সারিগুলো ঘুরে দেখা যায়, কোথাও শ্রমিকরা আগাছা পরিষ্কার করছেন, কোথাও চারায় পানি দিচ্ছেন। কেউ নতুন চারা বস্তা ও পলিব্যাগে প্রতিস্থাপন করছেন, আবার কেউ ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চারার চালান পাঠাতে ব্যস্ত। বড় চারাগুলো বস্তার ব্যাগে এবং ছোট চারাগুলো পলিব্যাগে উৎপাদন করায় পরিবহন সহজ হয় এবং ক্ষতির আশঙ্কাও কম থাকে।

‎স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নার্সারি শিল্প শুধু একটি লাভজনক ব্যবসাই নয়, এটি স্থানীয় অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। শত শত মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এ খাতকে ঘিরে। শ্রমিক, পরিবহনকর্মী, মাটি ও সার সরবরাহকারী, বস্তা ও পলিব্যাগ ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষের জীবিকা এখন এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।

‎স্থানীয় নার্সারি মালিকদের মতে, উপযুক্ত সরকারি সহযোগিতা, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ এবং পরিবহণ ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন করা গেলে এই খাত দেশের কৃষিখাতে এক অভাবনীয় পরিবর্তন আনতে পারে। পাইকগাছার চারা এখন জাতীয় পর্যায়ে সুনাম কুড়াচ্ছে, যা খুলনা অঞ্চলের অর্থনীতিতে বিশাল এক চালিকাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..