× Banner
সর্বশেষ
খাল খননের উদ্বৃত্ত ৬১ লাখ টাকা কোষাগারে জমা দিলেন ইউএনও ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নে দুই সিটির কার্যক্রমে গতি বাড়ানোর নির্দেশ ফেসবুকে প্রেম, নেত্রকোনায় এসে তরুণীকে বিয়ে করলেন চীনা যুবক ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা দুই মামলায় জামিন পেলেন ব্যারিস্টার সুমন বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে – নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘দেশকে এগিয়ে নিতে দৈনিক ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন প্রধানমন্ত্রী’ এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে – নাহিদ ইসলাম খাদ্য নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য শক্তি ও কৃষকের স্বার্থ বিবেচনায় এগিয়ে নিতে হবে এগ্রিভোল্টাইক কার্যক্রম – পরিবেশমন্ত্রী ইউআইইউতে প্রাইম ব্যাংকের “এমপাওয়ারিং ইয়ুথ সিজন ২.০” অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

খাদ্য নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য শক্তি ও কৃষকের স্বার্থ বিবেচনায় এগিয়ে নিতে হবে এগ্রিভোল্টাইক কার্যক্রম – পরিবেশমন্ত্রী

ACP
হালনাগাদ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
খাদ্য নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য শক্তি ও কৃষকের স্বার্থ বিবেচনা
খাদ্য নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য শক্তি ও কৃষকের স্বার্থ বিবেচনা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি বলেছেন, একই জমিতে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে এগ্রিভোল্টাইক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের অধিকার, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং সুফলের ন্যায্য বণ্টন প্রতিটি এগ্রিভোল্টাইক উদ্যোগের কেন্দ্রে রাখতে হবে।

আজ (২৯ জুলাই) রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকায় আয়োজিত ‘ন্যাশনাল এগ্রিভোল্টাইকস ওয়ার্কশপ: এক্সপ্লোরিং লোকাল অ্যাকশন মডেল ফর ইনক্লুসিভ গ্রোথ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে এগ্রিভোল্টাইকসের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করতে কর্মশালায় সরকারি প্রতিনিধি, গবেষক, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ, খরা, তীব্র তাপপ্রবাহ ও পরিবর্তিত বৃষ্টিপাতের ধরনসহ মারাত্মক জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে বাংলাদেশ। এসব প্রভাব দেশের কৃষি, পানিসম্পদ, অবকাঠামো ও গ্রামীণ জীবিকার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে দেশে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানির চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।

তিনি জানান, এনডিসি ৩.০-এর আওতায় বাংলাদেশ ২০৩৫ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দেশের সীমিত ভূমি এবং উচ্চ জনঘনত্ব বিবেচনায় বৃহৎ আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে উৎপাদনশীল কৃষিজমির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা সৃষ্টি না হয়।

মন্ত্রী বলেন, “এগ্রিভোল্টাইক একটি সম্ভাবনাময় সমাধান। কারণ এর মাধ্যমে একই জমিতে সৌর ফটোভোল্টাইক ব্যবস্থা এবং কৃষি উৎপাদন পরিচালনা করা যায়। যথাযথভাবে পরিকল্পিত ব্যবস্থা ফসল চাষ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। এটি বাষ্পীভবন কমানো, পানির ব্যবহার দক্ষ করা এবং কৃষকের অতিরিক্ত আয় সৃষ্টিতেও সহায়তা করতে পারে।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫-এ এগ্রিভোল্টাইককে একটি সম্ভাবনাময় নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি প্রকল্পে অর্থবহ কৃষি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে সৌর কাঠামোর নকশা, প্যানেলের উচ্চতা, ব্যবধান ও অবস্থান যেন ফসল উৎপাদনে সহায়ক হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

পরিবেশমন্ত্রী এগ্রিভোল্টাইক মডেলের কেন্দ্রে কৃষকদের রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের কারণে কৃষক যেন জমিতে প্রবেশাধিকার হারিয়ে না ফেলেন কিংবা অধিকাংশ সুবিধা অন্যরা ভোগ করার বিপরীতে কৃষক যেন কেবল সাময়িক ও সীমিত অর্থ না পান। বরং কৃষকের কৃষিভিত্তিক জীবিকা সুরক্ষিত রেখে প্রকল্পগুলোকে অতিরিক্ত ও পূর্বানুমানযোগ্য আয় নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এগ্রিভোল্টাইক থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সৌরসেচ, হিমাগার, ফসল শুকানো, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল গ্রামীণ কার্যক্রমে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি ব্যবস্থা বিদ্যুৎ গ্রিডের নির্ভরযোগ্যতা সীমিত এমন এলাকার জনগোষ্ঠীর সহনশীলতাও বৃদ্ধি করতে পারে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় তিনি বলেন, এগ্রিভোল্টাইকের সম্প্রসারণের জন্য উপযুক্ত আর্থিক ও ব্যবসায়িক মডেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্যারিস চুক্তির অনুচ্ছেদ ৬-এর সহযোগিতামূলক পদ্ধতি এবং জয়েন্ট ক্রেডিটিং মেকানিজমের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্বন অর্থায়ন অতিরিক্ত সহায়তা দিতে পারে। তবে কার্বনবাজারের সব কার্যক্রমে পরিবেশগত অখণ্ডতা, অতিরিক্ততা, স্বচ্ছ পর্যবেক্ষণ এবং দ্বৈত গণনা পরিহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় কার্বনবাজার কাঠামোর শর্তাবলি অনুসরণ করতে হবে।

ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল স্ট্র্যাটেজিস এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশ যৌথভাবে পরিবেশ অধিদপ্তর, টেরা জাপান ও ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় কর্মশালাটির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, জাপান দূতাবাস, জাইকা, জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, গবেষণা সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..